কে এই পুতিন? গোয়েন্দা থেকে বিশ্ব ক্ষমতাধর ব্যক্তি!

ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন ৭ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে রাশিয়ার লেনিনগ্রাদে (বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ নামে পরিচিত) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি শ্রমজীবী ​​পরিবারে বেড়ে ওঠেন এবং পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা (কেজিবি-তে) যুক্ত হন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি অনেক বিচক্ষণ একজন ব্যক্তি ছিলেন।

Jan 2, 2024 - 13:00
Jan 2, 2024 - 12:52
 0  173
কে এই পুতিন? গোয়েন্দা থেকে বিশ্ব ক্ষমতাধর ব্যক্তি!
কে এই পুতিন? গোয়েন্দা থেকে বিশ্ব ক্ষমতাধর ব্যক্তি!

ভ্লাদিমির পুতিন যিনি বর্তমানে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। তার ক্ষমতা সম্পর্কে অনেকেই জানেন। বিশ্বের যত ক্ষমতাধর ব্যাক্তি রয়েছেন তার মধ্যে ভ্লাদিমির পুতিন অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব। ধারণা করা হয় তাদের পারমাণবিক শক্তি এতটাই সুবিশাল যে সারাবিশ্ব তাদের পারমাণবিক শক্তিকে ভয় করে চলে। তার কিছুটা আমরা ইউক্রেনের ক্ষেত্রে লক্ষ করলেই দেখতে পাই ভ্লাদিমির পুতিন আসলে কতটা শক্তিশালী একজন ব্যক্তিত্ব।



প্রারম্ভিক জীবন

ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে রাশিয়ার লেনিনগ্রাদে (বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ নামে পরিচিত) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি শ্রমজীবী ​​পরিবারে বেড়ে ওঠেন এবং পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা (কেজিবি-তে) যুক্ত হন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি অনেক বিচক্ষণ একজন ব্যক্তি ছিলেন।



রাজনৈতিক কর্মজীবন

পুতিন ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং পদমর্যাদার মাধ্যমে উঠে আসেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেন্ট পিটার্সবার্গের মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তারপরে রাশিয়ান রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিনের উপদেষ্টা হন।


১৯৯৯ সাল থেকে তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত ছিলেন। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।



প্রেসিডেন্সি

১৯৯৯ সালে, ইয়েলৎসিন, পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং সেই বছরই ইয়েলৎসিন পদত্যাগ করলে পুতিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। ২০০০ সালে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন এবং ২০০৪ এবং ২০১২ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। মেয়াদ সীমার কারণে, তিনি ২০০০৮ সালে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন কিন্তু ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ফিরে আসেন।



কর্তৃত্ববাদী নেতৃত্ব

পুতিনের নেতৃত্বকে শক্তিশালী কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। সমালোচকরা তাকে ভিন্নমত দমন, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ায় রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্ব নিয়ে আসলেই কোন প্রশ্ন তোলা যাবেনা কারন তার নেতৃত্ব সারাবিশ্ব ব্যাপ পরিচিত


তিনি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত একজন রাজনীতিবিদ। নিজের দেশের স্বার্থে তিনি অনেক বড় বড় পদক্ষেপ নিতেও পিছু হাটেনা৷ কারন তার বর্তমান কিছু পদক্ষেপ থেকে আমরা দেখতে পাই তিনি নিজ দেশের স্বার্থ উদ্ধার করতে কখনোই পিছুপা হোন না।



আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

পুতিন তার মেয়াদে আরও দৃঢ় বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করেছেন, বিশেষ করে ইউক্রেন, জর্জিয়া এবং সিরিয়ার মতো এলাকায়। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করা এবং পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাতে এর জড়িত থাকার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।


এরপর বারবার ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে তিনি বার বার আলোচনায় আসেন। এতে করে স্বাভাবিক ভাবেই অনেক দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়ে গেছে। বিশেষ করে আমেরিকার সাথে কিছুদিন যাবত অনেকটাই খারাপ সম্পর্ক পরিলক্ষিত হচ্ছে।


এছাড়াও আমদানি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পরেছে।



অর্থনীতি

পুতিনের নেতৃত্বে, ‘রাশিয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং চ্যালেঞ্জ উভয় সময়কালই অনুভব করেছে। দেশটি তেল এবং গ্যাস রপ্তানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা তার অর্থনীতিকে শক্তির দামের ওঠানামার জন্য দুর্বল করে তুলেছে। বিশেষ করে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে দেশের অর্থনীতি বিশেষ ভাবে হেলে পড়েছে।


দেশে উৎপাদিত তেল ও গ্যাস এর উপর পশ্চিম বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারনে অনেক দেশে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়৷ যার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি হয়
এছাড়াও বিভিন্ন যুদ্ধসামগ্রি ক্রয় সহ সৈন্যদের পিছনে বিশাল অর্থের যোগানের ফলেও দেশের অর্থনৈতীক সমৃদ্ধি অনেকটাই থেমে গেছে।



পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পদ

মার্কিন সাময়ীকি ফরচুনের তথ্য মতে পুতিন বার্ষিক বেতন পেয়ে থাকেন প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার ডলার। তার প্রকাশ্যে ঘোষণা করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৮০০ বর্গফুটের একটি বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট তিনটি গাড়ি এবং একটি ভারী যান।


কিন্তু প্রায়ই ভ্লাদিমির পুতিনকে বিশ্বের অন্যান্য ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম একজন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কোম্পানি হেরমিট এর ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ২০১৭ সালে দাবি করেছিল ভাদিমির পুতিন এর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি ডলার।


এছাড়া ১৯৯০ এর দিকে তিনি ছিলেন রাশিয়ায় একজন অন্যতম বিনিয়োগকারী। ভ্লাদিমির পুতিনের যে অঢেল সম্পদে তথ্য পাওয়া যায় তার সাথে মূলত তার লাইফ স্টাইল অনেকটাই মিলে যায়। ফরচুনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় পাতেক ফিলিপ্পের পারপেচুয়াল ক্যালেন্ডার এবং এ ল্যাঞ্জ আ্যান্ড সোনের টুবোগ্রাফ এর মতো অনেক নামি দামি এবং বিলাসবহুল ঘড়ি পুতিন ব্যাবহার করেন।


ধারণা করা হয়ে থাকে এক লাখ ৯০ হাজার বর্গফুটের একটি অভিজাত বাড়ি পতিনের মালিকানায় রয়েছে। বহু সংবাদ মাধ্যম দাবি করেন কৃষ্ণ সাগরের পারে এই বাড়ির অবস্থান। ওই বাড়ি ছাড়াও প্রেসিডেন্টের আরো ১৯ টি বাড়ি সাতশ গাড়ি এবং ৫৮ টি প্লেন ও হেলিকপ্টার রয়েছে।


এছাড়াও রাজকীয় এক প্রমোদতরীর মালিকানার কথাও শোনা যায়। এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সকল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।



জনপ্রিয়তা

বর্তমান সময়ের একজন শক্তিশালী ব্যাক্তিত্ব হিসেবে আমরা ভ্লাদিমির পুতিনকে চিনে থাকি। তার জনপ্রিয়তা সারাবিশ্ব জুড়েই। তিনি একজন গ্রেট লিডার হিসাবে পরিচিত হলেও৷ বর্তমান সময়ে ইউক্রেনে হামলা ও এলাকা দখল নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট বার বার ভ্লাদিমির পুতিন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন।


বার বার তাকে শান্তি চুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে চাইলেও তিনি বার বার সেইদিক থেকে ফিরে গিয়েছেন যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়েছে৷ তারই ফলপ্রসূ হিসেবে বিভিন্ন ক্ষমতাশিল দেশের সাথে তার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।


কিন্তু নিজের দেশে তিনি একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যাক্তি। নিজ দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি নিজ দেশের জনগণদের কাছে অনেক বন্ধুত্বপূর্ন একজন মানুষ। বিশ্বের সকল ক্ষমতাসীন যতগুলো ব্যাক্তিত্ব রয়েছে তার মধ্যে ভ্লাদিমির পুতিন একজন অন্যতম ব্যাক্তি।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

মো: বুলবুল আহমেদ ছাত্র, আজিজুল হক কলেজ