জগৎমদন গাছের উপকারিতা ও গুণাবলি

জগৎমদন গাছের ছাল, বাকল ও পাতা ভেষজ ঔষধিগুণ সম্পূর্ণ। জগৎ মদন গাছ সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য। ওষুধের উপকারিতায় ভরপুর জগৎ মদন গাছ।

Jan 4, 2024 - 12:30
Jan 4, 2024 - 16:14
 0  495
জগৎমদন গাছের উপকারিতা ও গুণাবলি
জগৎমদন গাছের উপকারিতা ও গুণাবলি

জগৎমদন গাছের ছাল, বাকল ও পাতা ভেষজ ঔষধিগুণ সম্পূর্ণ। জগৎ মদন গাছ সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য। ওষুধের উপকারিতায় ভরপুর জগৎ মদন গাছ।

বাংলা নাম: জগত্মদন, বিশাল্লা, বিষজারণ

আঞ্চলিক/স্থানীয় নাম: মাহানাওক, পাইলিংফাং, কাইবাৎ, (মারমা), মুনদ্দোপাইং, বাজক (চাকমা)

অন্যান্য নাম: Justicia gendarussa L.

বৈজ্ঞানিক নাম: Gendarussa vulgaris Nees.

ইংরেজি নাম: Gendarussa

গোত্র/পরিবার: Acanthaceae


উদ্ভিদ বর্ণনা 

বহুবর্ষজীবী ছোট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, কান্ড সবুজ, ১-১.৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। পাতা ব ফলাকৃতি, ১২x০.৫-৩.৫ সে.মি.। পত্রের কিনারা কর্তিত ও উজ্জ্বল এবং সূক্ষ্মালোমযুক্ত। পত্রের মধ্যকার শিরা যেখানে রঙের এবং গাছের রঙটাও অনেকটা বেগুনে। পত্র বৃত্ত ০.২৫ সে.মি.


ফুল ছোট, সাদা অথবা হালকা-গোলাপি। পাপড়ি ১.২৫ সে.মি. লম্বা, তরবারি আকৃতি, সূক্ষ্মলোমযুক্ত। বীজ কোষ ১.২৫ মি.মি. সূক্ষ্ম লোমযুক্ত। কোষে ৪টি বীজ ধারে এপ্রিল মে মাসে ফুল এবং বর্ষার প্রারম্ভে ফল হয়


ব্যবহার্য অংশ

. পাতা ও মূলের ছাল 

. আঞ্চলিক/স্থানীয় লোকজ ব্যবহার 

. শরির-ব্যথায়, দাঁতের মাড়ি ফোলা, ব্যথা, হাঁপানি, ফোঁড়া/বিষাক্ত ফোঁড়া, পেট বাজা সময় সময় বমি, সর্দিকাশি, শ্বেতস্রাব এবং যকৃৎ বেড়ে গেলে


শরির-ব্যথায়  

. পাতাসিদ্ধ পানি ১ কাপ করে দিতে ২ বার সেব্য

. দাঁতের মাড়ি ফোলা এবং ব্যথাতে 

. পাতা ভাল করে গুঁরো করে দাঁতের মাড়িতে রাখা হয়। দিনে ১ বার করে ৪-৫ দিন।


হাপানিতে 

. পাতা একটু রসুনের সাথে ভাল করে পিষে পরিমাণমত মধু মিশিয়ে সিরাপ বানিয়ে খেতে হয়। মাত্রা ২ চামচ করে দিনে ৩ বার ১ মাস খেতে হবে।


ফোঁড়/বিষাক্ত ফোঁড়াতে 

. পাতা পুঁড়ে ছাই তৈরি করে ফোঁড়ার আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হয় প্রায় ৭ দিনের মত


পেট ব্যথা, সময় পানি বমি

পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে আগুনিতিতা, মুসাঘর, গুলমরিচ, রসুন জাত্রিক, পাহাড়ি এলাচি, আদা ইত্যাদি একসাথে পিষে ঢেঁড়শ বিচি আকারে বড়ি তৈরি করে গরম পানি দিয়ে খেতে হয়। ১ বড়ি করে দিনে ৩ বার


সর্দিকাশিতে 

. পাতা বেটে রস পানিতে মিশিয়ে খেতে হয় পরিমাণ মত


লিউকোরিয়াতে (শ্বেতস্রাব)  

. পাতার রস মধুসহ সেব্য পরিমাণমত


যকৃৎ (লিভার) বেড়ে গেলে 

পাতা ছেঁচে ছোবড়াসহ রস কলাপাতায় দিয়ে আগুনে ছেঁক দিয়ে আক্রান্ত স্থানে রাতে ঘুমাবার আগে বেঁধে রাখতে হয় এবং সকালে খুলে ফেলতে হয়। পাতা ১ মুঠো ৭ দিন ব্যবহার করতে হয়।


অন্যান্য তথ্যপ্রাপ্ত ব্যবহার 

. বাসকের বিকল্প হিসাবে ঠাণ্ডাজনিত রোগে অনেকে ব্যবহার করে থাকে। ঠাণ্ডাজনিক রোগ ও গন্ড মালা ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়ে থাকে


আধকপালে মাথাধরা ও কর্ণপ্রদাহে

.পাতার নিংড়ানো রস যেদিকে আধকপালে ব্যথা সেদিকে নস্য নিলে উপশম হয়। উটিকা রস কর্ণে প্রদান করলে কান ব্যথায় উপশম হয়।


অর্ধাঙ্গ পক্ষাঘাত ও মুখের পক্ষাঘাতে

.পাতার নির্যাস অভ্যন্তরীণ সেবনে উপকার হয়


পুরাতন বাত ব্যথাতে 

. পাতার ক্বাথ সেব্য এবং পাতা সিদ্ধ পানিতে গোসলে বাত ব্যাথা আরাম পাওয়া যায়। পাতা ও মূলের রস তিলতেলের সাথে ব্যবহারেও বাতরোগে আরাম পাওয়া যায়


মন্ডমালা রোগে

. মূলের ছাল পানির সাথে পেষণ করে নস্য নিলে উপকার হয়


প্রাপ্তিস্থান 

. চট্টগ্রাম ও পার্বত্র চট্টগ্রাম বনাঞ্চলসহ দেশের সকল জেলাতেই কমবেশি দেয়া যায়। সাধারণত ছায়াযুক্ত স্থঅনে এই গাছটি বেশি দেখা যায়। থানচি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ঔষধি বাগান এবং সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাগানেও এই উদ্ভিদটি বিদ্যমান


বংশবিস্তার 

. কাটিংয়ের সাহায্যে সহজেই এই উদ্ভিদটির বংশ বিস্তার সম্ভব। অতিবৃষ্টি এবং ছায়াময় স্থানে বংশ বৃদ্ধিতে অসুবিধা হয় না


রাসায়নিক উপাদান

1. Leaves contain a bitter and slightly toxic alkaloid, some aromatic amines and alpha & beta-sitosterol.

2. Roots contain beta-sitosterol.

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

মহাদেব কুমার আমি একজন ছাত্র। অনার্স চতুর্থ বর্ষ উদ্ভিদ বিদ্যা শাখা নওগাঁ সরকারি কলেজ। পড়াশুনা পাশাপাশি কৃষি কাজ করি।