সম্পর্কে সহমর্মিতার গুরুত্ব

সহমর্মিতা হলো একজন ব্যক্তির ওই গুন যা থাকলে ওই ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির দুঃখ, কষ্ট বা ব্যথিত হওয়ার খবর শুনলে নিজেও সমভাবে দুঃখিত বা ব্যথিত হন সেটিই হলো সহমর্মিতা। অপরের ব্যথায় একইভাবে ব্যথিত হওয়ার নামই সহমর্মিতা।

Mar 3, 2024 - 09:00
Mar 3, 2024 - 23:21
 0  24
সম্পর্কে সহমর্মিতার গুরুত্ব
সম্পর্কে সহমর্মিতার গুরুত্ব

সহমর্মিতা নিয়ে একটি শিক্ষণীয় গল্প

আসাদ সাহেব ও হাসান সাহেব পরস্পর পরস্পরের প্রতিবেশী। তারা দুজন ভালো বন্ধুও বটে। তাদের উভয়ের পরিবারের মধ্যে রয়েছে একটা পারিবারিক বন্ধন। আসাদ সাহেবের পরিবারের লোকজনের হাসান সাহেবের পরিবারের লোকজনের সাথে অনেক বেশি সখ্যতা রয়েছে।


উভয় পরিবার একে অপরের বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন সময় একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত করে। নিজেদের সুখে-দুখে, আনন্দে, আমোদে একসাথে মিলেমিশে উপভোগ করে। আসাদ সাহেবের সন্তানদের সাথে হাসান সাহেবের সন্তানদেরও অনেক সুন্দর বন্ডিং রয়েছে।


আসাদ সাহেব এবারের শীতে চিন্তা করলেন কক্সবাজার বেড়াতে যাবেন। তিনি হাসান সাহেব কে
বললেন যে, চলুন আমরা সবাই মিলে কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসি।” কিন্তু হাসান সাহেবের জরুরী কাজ থাকায় তিনি যেতে পারলেন না তিনি বললেন, আপনারাই যান সামনেবার ইনশাল্লাহ একসাথে যাব।” আসাদ সাহেব স্বপরিবারে কক্সবাজার গেলেন। কক্সবাজারে তারা অনেক আনন্দ ফুর্তি করলেন, অনেক সুন্দর একটা সময় তারা কক্সবাজারে কাটালেন।


কক্সবাজার থেকে তারা বাসে করে নিজেদের বাড়ির দিকে রওনা দিলেন ফিরে আসার জন্য। বাস কিছুদূর যাওয়ার পরে একটা ছোটখাটো অ্যাক্সিডেন্ট হলো। অ্যাক্সিডেন্টে আসাদ সাহেবের পরিবারের সবাই কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হলেও আসাদ সাহেবের ছোট ছেলের বাম পা ভেঙে গেল। লোকেরা তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলো এবং আসাদ সাহেব তার প্রতিবেশী হাসান সাহেব কে ফোন করে দুর্ঘটনার খবরটি জানাবেন। আসাদ সাহেবের পরিবারের এবং তার ছোট ছেলের এমন দূর্ঘটনার কথা শুনে আহসান সাহেবের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।


তার ব্যবসার জরুরী মিটিং চলছিল কিন্তু সাথে সাথে তিনি মিটিং ক্যানসেল করে একটি প্রাইভেট কার রিজার্ভ করে আসাদ সাহেবের ভর্তি হওয়া হাসপাতালের দিকে রওনা দিলেন। তিনি অন্তরের মধ্যে এতটাই ব্যথা অনুভব করছিলেন, এতটাই ব্যথিত হচ্ছিলেন যেন মনে হচ্ছিল তার নিজের ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি সত্যিই অনেক ব্যথিত হয়েছেন, অনেক ভেঙে পড়েছেন যেন তার নিজের ছেলের বাম পা ভেঙে গেছে।


হাসান সাহেব খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছলেন এবং আসাদ সাহেবের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তাদেরকে তখন অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিলেন। সন্তানের মত করে আসাদ সাহেবের সন্তানের সেবা করলেন। এভাবে আসাদ সাহেবের পরিবার সুস্থ হলো এবং তারা আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসলো এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে শুরু করলো।


ভাবছেন আসাদ সাহেব এবং হাসান সাহেবের গল্প কেন বলছি। আসাদ সাহেব ও হাসান সাহেবের গল্প এই জন্যই বলছি যে, আমি আজকে আপনাদের সাথে সহমর্মিতার বিষয়ে আলোচনা করতে চাই। উপরের গল্পে আপনারা নিশ্চয়ই একটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন যে, আসাদ সাহেব যখন হাসান সাহেবকে ফোন করে তাদের দূর্ঘটনার কথা জানালেন, তখন হাসান সাহেব তার জরুরি ব্যবসায়িক মিটিং বাতিল করে দিলেন এবং দ্রুত হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন এবং আসাদ সাহেবের সন্তানের পা ভেঙে যাওয়ার কথা শুনে হাসান সাহেব এতটাই ব্যথিত হয়েছিলেন মনে হচ্ছিল যেন, হাসান সাহেবের নিজের সন্তানেরই পা ভেঙে গেছে। এই যে অপরজনের ব্যথায় তার মতো ব্যথিত হওয়া এটিই হচ্ছে সহমর্মিতা’।


সহমর্মিতার সংজ্ঞা

সহমর্মিতা হলো একজন ব্যক্তির ওই গুন যা থাকলে ওই ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির দুঃখ, কষ্ট বা ব্যথিত হওয়ার খবর শুনলে নিজেও সমভাবে দুঃখিত বা ব্যথিত হন সেটিই হলো সহমর্মিতা। অপরের ব্যথায় একইভাবে ব্যথিত হওয়ার নামই সহমর্মিতা।


সহমর্মিতা মানুষের সেই গুণ যা তাকে
অন্য একজন মানুষের জন্য সমব্যথী করে, অন্যের হতাশায় হতাশাগ্রস্থ করে। সে নিজেকে অন্যেজায়গায় অন্যের মতো করে ভাবে। যেই গুণ থাকার ফলে একজন মানুষ অন্য মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ায় সেটিই হলো সহমর্মিতা।


সহমর্মিতা কিভাবে প্রকাশ করতে হয়?

সহমর্মিতা প্রাণিজগতের এক অভূতপূর্ব সৌন্দর্য। সহমর্মিতা আছে বলেই পৃথিবী এখনো শান্তিময়, পৃথিবী এখনো এত সুন্দর। পৃথিবীর যত খারাপ দিক, যত কঠোরতা, যত হিংস্রতা, যত অমানবিকতা সবকিছুই আড়ালে চলে যায় শুধুমাত্র সহমর্মিতার শক্তিবলে। সহমর্মিতা সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারলে একজন মানুষ প্রকৃত শান্তি সুখের সাগরে ভাসতে পারে।


সহমর্মিতা প্রকাশ করতে শুধু অন্যের ব্যথায় নিজে ব্যথা পেয়েছি বলে প্রচার করলেই হবে না, সহমর্মিতা প্রকাশের সর্ব উৎকৃষ্ট পন্থা হলো অন্যের বিপদে, অন্যের ব্যথায় নিজে ব্যথিত হওয়ার পাশাপাশি তার পাশে দাঁড়ানো, ব্যথিত ব্যক্তিটির বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিটির উপকারে আসার চেষ্টা করা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী।


একজন মানুষ হিসেবে আপনি অন্য একজন মানুষের বিপদে তার পাশে দাঁড়াবেন তার উপকারে আসার চেষ্টা করবেন এটাই হলো সহমর্মিতা প্রকাশের সর্ব উৎকৃষ্ট উদাহরণ।


সহমর্মিতা একটি মহান গুন

সহমর্মিতা একটি মহান গুণ এর নাম। সহমর্মিতা একটি মহান গুণ যা মানুষকে মহান করে। এই মহান গুনটি শুধু মানুষেরই নয় যে কোন প্রাণীরই থাকতে পারে। যদি কোন একজন মানুষ বা প্রাণীর সহমর্মিতা নামক এই মহান গুনটি থাকে তবে নিঃসন্দেহে সেই মানুষকে বা অন্য কোনো প্রাণীকে মহান জীব হিসেবে পরিগণিত করা যায়। কেননা এই গুনটি একটি জীবনকে মহান করে তোলে।


সহমর্মিতা একটি পবিত্র গুন

সহমর্মিতা একটি পবিত্র গুনও বটে। বিভিন্ন ধর্ম সহমর্মিতাকে পবিত্রতার একটি গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পবিত্র ধর্ম ইসলাম সহ অন্যান্য ধর্মে সহমর্মিতা অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি গুণ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। পবিত্র ধর্ম ইসলামে সহমর্মিতাকে অর্থাৎ বিপদে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোকে এক মহান সওয়াবের কাজ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।


অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ানোকে ইসলামে সবচেয়ে সওয়াবের এবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু ইসলাম নয় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ অন্যান্য ধর্মেও সহমর্মিতা অর্থাৎ অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হওয়া, অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানোকে অনেক বেশি পুণ্যের কাজ হিসেবে পরিগণিত করা হয়। যেহেতু সহমর্মিতা একটি অত্যন্ত পুণ্যের গুণ হিসেবে বিভিন্ন পবিত্র ধর্মে উল্লেখিত হয়েছে তাই অকপটে বলায় যায়, সহমর্মিতা একটি পবিত্র গুন।


দেখুন, পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের কাছে সবচেয়ে পবিত্র বস্তুটি হচ্ছে তাদের নিজেদের ধর্মগ্রন্থ। পৃথিবীতে অনেক ধর্ম রয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইসলাম এই ধর্মগুলো অধিক প্রসিদ্ধ। এগুলো ছাড়াও অনেক ধর্ম রয়েছে পৃথিবীতে। এই ধর্মগুলো পবিত্র হিসেবেই তার অনুসারীদের মাঝে পরিগণিত হয়।


আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই প্রত্যেকটি পবিত্র ধর্মের ধর্মগ্রন্থে সহমর্মিতার গুনটিকে একটি সওয়াব তথা পুণ্যের গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু পৃথিবীর সকল পবিত্র ধর্মগ্রন্থে সহমর্মিতাকে ইতিবাচক এবং পূণ্যজনক গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাই এটা বলাতে কোন সন্দেহ নেই যে, সহমর্মিতা একটি মহাপবিত্র গুন।


মানব সভ্যতার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহমর্মিতার গুরুত্ব

সহমর্মিতা মহান কারণ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রাণীর মধ্যে যদি সহমর্মিতা থাকে তবে এই গুণটি সেই মানুষকে উদার করে, এই গুণটি সেই মানুষকে মহান হিসেবে অপর মানুষের কাছে পরিগণিত করে। সহমর্মিতার এই গুণটি আছে বলেই পৃথিবীতে এখনো শান্তি বিরাজমান।


সহমর্মিতার গুনটি আছে বলেই পৃথিবী এখনো এত সুন্দর, সভ্যতা এখনো অবিচল। সহমর্মিতা গুণটি আছে বলেই পৃথিবী এখনো বসবাসের উপযুক্ত রয়েছে। যদি সহমর্মিতা না থাকতো, যদি কোন মানুষ অপর মানুষের ব্যথায় দুঃখ না পেত, তাহলে পৃথিবী অস্থিতিশীল হয়ে যেত। মানুষে মানুষে হাঙ্গামা, মারামারি, খুন-খারাবিতে পুরো সমাজ ব্যবস্থা ভরে যেত।


এক অস্থিতিশীল, নৈরাজ্য, সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হল এই মানব সভ্যতা। এই মানব সভ্যতা পড়তো হুমকির মুখে, একজন মানুষ হয়ে সে অপর মানুষকে হত্যা করতেও দ্বিধাগ্রস্থ হতো না। এই বর্তমান সমাজেও যত নৈরাজ্য, খুন-খারাবি, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় তার মূলে যারা থাকে তাদের মধ্যে সহমর্মিতার এই গুনটি নেই বলেই তাদের দ্বারা এই সকল অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়।


তাই সহমর্মিতার গুনটি হলো অত্যন্ত মহান একটি গুণ যা মানুষকে শান্তিপ্রিয় করে তোলে, যা মানুষকে সভ্য করে তোলে, যা মানুষকে মহান করে গড়ে তোলে। সুতরাং আমরা এটি অকপটে স্বীকার করতে বাধ্য যে, সহমর্মিতা একটি মহান গুণ।


যেকোনো সম্পর্কে সহমর্মিতার গুরুত্ব

দেখুন, যে কোন সম্পর্কেই সহমর্মিতার গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম, যদি সেই সম্পর্কটি ইতিবাচক সম্পর্ক হয়। হ্যাঁ যদি সম্পর্কটি নেতিবাচক হয় অর্থাৎ শত্রুতামূলক সম্পর্ক হয় সেই ক্ষেত্রে সহমর্মিতা নাও থাকতে পারে। তবে ইতিবাচক যেকোনো সম্পর্কের জন্যই সহমর্মিতা এক অপরিহার্য শর্ত।


যদি আপনি একজন মানুষকে সেই মানুষের মতো করে না ভাবতে পারেন, নিজেকে সেই মানুষের জায়গায় কল্পনার করে তার ব্যথাগুলো অনুভব করতে না পারেন, যদি আপনি সেই মানুষটিকে বুঝতে না পারেন, যদি সেই মানুষটির মতো করে চিন্তা করতে না পারেন, যদি তার সাথে থাকতে না পারেন, তার পাশে থাকতে না পারেন, তার ব্যথার সময় তার মত করে ব্যথিত হতে না পারেন, যদি তার পাশে দাঁড়াতে না পারেন, তবে আপনি তার সাথে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করতে পারবেন না।


আর যদি একটি শক্তিশালী বন্ধন সম্পর্কে না তৈরি করতে পারেন তার ফলে আপনাদের সম্পর্কটি মধুর হবে না। সম্পর্কটি সম্পূর্ণ সুখকর হবে না। তাই যে কোন মধুর সম্পর্ক এবং শক্তিশালী বন্ধন এর জন্য অপরিহার্য শর্ত হলো সহমর্মিতা।


সহমর্মিতা যেমনভাবে একজন মানুষকে মহান করে গড়ে তোলে, ঠিক তেমনি সম্পর্কের বন্ধনকেও শক্তিশালী করে এবং একটি সম্পর্ককে মধুর করে। তাই যে কোন সম্পর্কে সহমর্মিতার গুরুত্ব অপরিসীম।



সহমর্মিতার অভাব কেন হুমকি স্বরূপ

সহমর্মিতা একটি মহান গুণ এবং একটি পবিত্র গুণ। যে সকল গুণাবলী এই মানব সভ্যতার শান্তি এবং সমৃদ্ধি রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে তাদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো সহমর্মিতা। সহমর্মিতা মানুষকে মহান করে।


সহমর্মিতা মানুষকে পবিত্র আত্মার অধিকারী করে। সহমর্মিতা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। সহমর্মিতা মানুষে মানুষে সম্পর্ককে গভীর করে, বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। সহমর্মিতার মতো গুণ আছে বলেই পৃথিবী এখনো বসবাসযোগ্য।


সহমর্মিতার মতো এই মহান গুনটি যদি মানুষের মধ্যে থেকে উঠে যায়
, যদি সভ্যতায় সহমর্মিতার অভাব দেখা দেয় তাহলে অপরিহার্য ভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। সহমর্মিতা না থাকলে একজন মানুষ অপর মানুষকে খুন করতে দ্বিধাগ্রস্ত হবে না। খুন, রাহাজানি, হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি সহ বিভিন্ন নৈরাজ্য ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড যারা সংঘটিত করে তাদের হৃদয়ে সহমর্মিতার গুনটি নেই বলেই তারা এগুলো করতে সক্ষম হয়।


তাই যদি সহমর্মিতার অভাব দেখা দেয় একজন মানুষের মধ্যে তবে সেই মানুষ হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে, সে এমন কর্মকাণ্ড করে বসে যে তাকে তখন মানুষ বলে মনে হয় না। আর যদি পুরো মানব সভ্যতায় সহমর্মিতার অভাব দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে এই মানব সভ্যতাটি হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে যাবে, একটি বসবাসের অনুপযুক্ত, হিংস্র, মানবতাহীন, অমানবিক সভ্যতায় পরিণত হবে।


সহমর্মিতা না থাকলে মানবতা থাকবে না আর মানবতা না থাকলে এই সভ্যতায় শান্তি থাকবে না। অশান্ত সমাজে বসবাস করা যায় না, বসবাসের অনুপযুক্ত, অশান্ত, অস্থিতিশীল সমাজ ব্যবস্থা আমাদের কাম্য নয়। তাই এটা বলা খুবই যুক্তিযুক্ত যে, সহমর্মিতার অভাব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরূপ।


শেষ কথা

আমাদের আলোচনার সর্বোপরি বিষয়বস্তু এতোটুকুই যে সহমর্মিতা এক মহান এবং পবিত্র গুণ। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে প্রত্যেকটি মানুষের উচিত নিজের হৃদয়ে সহমর্মিতার গুনটি লালন করা। সহমর্মিতার গুনটি সঠিকভাবে হৃদয়ে লালন করার মাধ্যমে এই মানব সভ্যতাকে শান্তিপূর্ণভাবে রক্ষা করা সম্ভব।


সহমর্মিতার অভাব আমাদের মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরূপ তাই এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চর্চা বজায় রাখতে হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

আব্দুস সাদিক কন্টেন্ট রাইটার