‘স্পাইডারম্যান ইনটু দ্য স্পাইডার ভার্স (Spider-Man: Into the Spider-Verse)’ সুপারহিরো অ্যানিমেশন সিনেমা

আজকে আমরা আপনাদের জানাবো স্পাইডারম্যান ইনটু দা স্পাইডারভার্স মুভি সম্পর্কে। সুপার হিরো অ্যানিমেশন সিনেমাটি ২০১৮ সালে বক্স অফিসে অনেক হিট করেছিল। সিনেমাটি সেই সময় অনেক নাম অর্জন করেছিল। এই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

Feb 8, 2024 - 12:00
Feb 8, 2024 - 17:13
 0  36
‘স্পাইডারম্যান ইনটু দ্য স্পাইডার ভার্স (Spider-Man: Into the Spider-Verse)’ সুপারহিরো অ্যানিমেশন সিনেমা
‘স্পাইডারম্যান ইনটু দ্য স্পাইডার ভার্স (Spider-Man: Into the Spider-Verse)’ সুপারহিরো অ্যানিমেশন সিনেমা

স্পাইডারম্যান একজন সুপারহিরো যার জনপ্রিয়তার কোনো ইয়ত্তা নেই। একজন সাধারণ বালক থেকে কিভাবে সে স্পাইডারম্যান হয়ে ওঠে সেটা আমরা কমবেশি সবাই জানি। এই চরিত্র নিয়ে এখন পর্যন্ত অনেক লাইভ অ্যাকশন সিনেমা তৈরী হয়েছে। তবে আজকে কথা বলব এই স্পাইডারম্যান নিয়ে সনি এন্টারটেইনমেন্টকর্তৃক নির্মিত একটি এনিমেশন মুভি নিয়ে যা অস্কার পর্যন্ত জিতেছে। স্পাইডার-ম্যান ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স (২০১৮) একটি দুর্দান্ত এবং মজাদার অ্যানিমে ফিল্ম যা আপনাকে দেখায় যে স্পাইডার-ম্যান হওয়ার অর্থ কী। 


মাইলস মোরালেস, ব্রুকলিনের একটি দুর্দান্ত বাচ্চা, যে একটি বিশেষ মাকড়সা কামড়ানোর পরে মাকড়সার শক্তি পায়। তার একদিন পিটার পার্কারের সাথে দেখা হয়, আসল স্পাইডার-ম্যান, যিনি কিংপিন নামের একটি খারাপ লোককে এমন একটি মেশিন ব্যবহার করা থেকে বিরত করার চেষ্টা করছেন যা অন্য জগতের দরজা খুলে দিতে পারে কিন্তু পিটার মারা যায় এবং মাইলসকে নতুন স্পাইডার-ম্যান হিসেবে তার জায়গা নিতে হয়। সে বিভিন্ন টাইমলাইন ও ইউনিভার্সের অন্যান্য স্পাইডার-ম্যানদের সাথেও দেখা করে যারা দুর্ঘটনাক্রমে তার পৃথিবীতে এসেছে। 


তাদের মধ্যে একজন বয়স্ক এবং কুরুচিপূর্ণ পিটার বি.পার্কার, একজন স্মার্ট এবং সাহসী গুয়েন স্ট্যাসি, একজন অন্ধকার এবং রহস্যময় স্পাইডার-ম্যান, স্পাইডার-হ্যাম নামে একটি মজার এবং কিউট পিগ এবং পেনি পার্কার নামের একটি স্পাইডার রোবট তাদের সবাইকে একসাথে একটা টিম হিসেবে কাজ করতে হয়, কিংপিন এবং তার দুষ্ট মিনিয়নদের পুরো মহাবিশ্ব ও টাইমলাইন ধ্বংসলীলায় বাধা দিতে। এরপর তারা লেগে পরে নিজ জগতে ফিরে যাওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে। আর এই জার্নি থেকে মাইলস শিখেছে কিভাবে তার ক্ষমতা ব্যবহার করতে হয় এবং সে হতে পারে সেরা স্পাইডার-ম্যান।


সিনেমার অ্যানিমেশন নিয়ে কথা বলতে গেলে ভাষা হারিয়ে যায়। এমন অ্যানিমেশন হয়ত এর আগে কোনো অ্যানিমেশন সিনেমায় ব্যবহার করার হয়নি। যারা সুপারহিরো কমিক সম্পর্কে ধারণা রাখেন তাদের কাছে এটি আরো বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠবে। এত কালারফুল ও জিবন্ত অ্যানিমেশন যা আপনাকে স্ক্রিনের সাথে আটকে রাখবে। সিনেমায় ভরপুর কমেডি রয়েছে, সাথে রয়েছে কিছু গভীর ও অর্থবহ সংলাপ।


একটি সিনেমা, যেখানে একটিমাত্র চরিত্র স্পাইডারম্যানএর ৬ টি ভার্সন একত্রিত করে একটি মুভি তৈরী করা হয়েছে। আবার প্রত্যেকটি চরিত্রকে পর্যাপ্ত স্ক্রিনটাইম দেওয়া ও তাদের চরিত্রের বিকাশ ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে দেওয়া। একবার ভাবতে বাধ্য করে, কীভাবে এতকিছু এত অল্প সময়ে দেখানো সম্ভব। সিনেমার পরিচালকগন বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন এতগুলো চরিত্র। হ্যাঁ পরিচালক নয়, পরিচালকগণ


এই সিনেমা ৩ জন পরিচালক মিলে পরিচালনা করেছেন- বব পার্সি, পিটার র‍্যামসি ও রডনি রথম্যান। স্পাইডারম্যানের ছয়টি ভার্সনের পাশাপাশি প্রধান ভিলেন কিংপিন নিয়েও ভালো কাজ হয়েছে। যদিও আশানুরূপ স্ক্রিনটাইম তাকে দেওয়া হয়নি বলেই মনে হচ্ছে তবুও তার খারাপ কাজের পেছনে ইতিহাস ও কারণ এমনভাবে দেখানো হয়েছে যা আপনার কাছে যৌক্তিক বলেই মনে হবে


একটা সুপারহিরো মুভির প্রধান আকর্ষণ হয় এর অ্যাকশন সিন। আর এখানে সিনেমার অ্যাকশন সিন বেশ মানসম্মত বলা চলে, তবে একটু কমতি মনে হতে পারে অনেকের কাছেই। তবে অ্যাকশন অ্যানিমেশন ছিলো অসাধারণ,  লাইটিং ইফেক্ট, ভাইব্র‍্যান্ট কালার আর চোখ ধাধানো স্পেশাল ইফেক্টস সিব মিলিয়ে একদম পারফেক্ট অ্যাকশন উপহার দেয় এই সিনেমা তবে সিনেমা এখানেই শেষ হয়না, ভরপুর অ্যাকশন, থ্রিল আর সুপারপাওয়ারের ভালো ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরাটাও ছিলো বেশ কঠিন কাজ। 


আর এসব চড়াই উতরাই পার হয়ে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয় এমন একটা সিনেমা২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমা অ্যানিমেশন সিনেমা জগতের একটি গর্ব। অসংখ্য পুরস্কার ও খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি অ্যানিমেশন সিনেমা নিয়ে মানুষের ইতস্ততার ইতি ঘটিয়েছে এই সিনেমা। যারা সুপারহিরো সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের একদমই মিস করা উচিত নয় এটি

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow