‘সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে টনিক’ | টনিক (Tonic) মুভি রিভিউ

বড়দিনের দর্শকদের বড় উপহার দিয়েছেন অভিনেতা দেব এবং অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা রেকর্ড গড়েছে টনিক মুভিটি। মুক্তি পেয়েই মুভিটি জায়গা করে নিয়েছে দর্শক মনে। জানা যায়, অভিনেতা দেবের জন্মদিনের ঠিক আগেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। দেব বরাবরাই জানিয়েছিলেন যে, এই মুভিটি তাঁর মনের খুব কাছের।

Feb 8, 2024 - 13:00
Feb 8, 2024 - 17:50
 0  37
‘সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে টনিক’ | টনিক (Tonic) মুভি রিভিউ
‘সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে টনিক’ | টনিক (Tonic) মুভি রিভিউ

বাঙালীকে চ্যালেঞ্জ দিবি না বলে দিলাম!” আজ টনিক (Tonic) মুভির রিভিউ দেবার চেষ্টা করবো। এই মুভির ট্রেইলার দেখেই গল্প বুঝে যাবার জো নেই। তারজন্যে আপনাকে পুরো মুভিটি দেখা খুব প্রয়োজন। বাংলায় এমন সুন্দর ডায়ালগ গাঁথা মুভি কম দেখা যায়, এত সংকীর্ণ জীবন রাস্তার মধ্যেও প্রাণভরে হাসা যায়। ঠিক তাই, টনিক কোন সিরাপ নয়; একটি মুভি এবং ভালোবাসা ও ভালো থাকার গল্প।


মানুষ বৃদ্ধ হলেই তার হাতে ধরে দেওয়া হয় একাধিক নিয়ম-কানুন আর একগাদা প্রেসক্রিপশন। বাঁচার মত বাঁচা যেটাকে বলে তা শেষ জীবনে এসে স্রেফ দায়িত্ব আর কর্তব্যে কীভাবে যে ঢেকে যায় তা টনিক (Tonic) মুভির গল্পের পরতে পরতে পাওয়া যায়।


সাধারণের মাঝেও অসাধারণত্ব

গল্প খুব সাধারণ। সেই নাইন টু ফোর পিএম জব। ব্যস্ততায় ঢেকে যাওয়া একটি পরিবার। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বিবাহ বার্ষিকী। কোথায় হবে? চিরচেনা বাড়ির ছাদে। নিয়মরীতি মেনে মধ্যবিত্ত পরিবার যখন অতিথিদের তালিকা তৈরি করছেন তা যেন আমাদের অতি চেনা গল্প। আবার যদি সেটা হয় ফুল দিয়ে বাড়ি সাজানোর গল্প তাহলে বলবো সেটাও চেনা।


কিন্তু এত এত চেনা আর হাসিখুশির মধ্যে দিয়ে টনিক (Tonic) মুভি জানিয়ে দিলো, নৈতিকতা, সম্পর্কের মূল্য, দুই প্রজন্মের মধ্যে একটি যোগাযোগ। বয়স যে শুধুমাত্র একটি সংখ্যা মাত্র তা অত্যন্ত সুনিপুণ অভিনয়ে তুলে আনলেন অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অপরদিকে কলকাতার সুপারস্টার দেব তার ক্যারিয়ারের খাতায় লেখালেন যেন আরো একটি ভালো মুভির নাম।


আসলে টনিক (Tonic) কি জিনিস?

এই নামের তাৎপর্য বুঝতে খুব বেশি কায়দা করতে হয় না। টনিক (Tonic) এমন একজন মানুষ যে কিনা তার যৌবনে অনেক বিনোদন বা আরো গড়পড়তা জীবন যাপন সাক্রিফাইস করেছেন। দেশের বাইরে থেকে মা-বাবা কে হারানোর যে ব্যাথা তা ঠিক মনে দাগ কেটে রয়েই গেছে।


আমরা যখন আমাদের বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের সময় দিতে ভুলে যাই তখন এই টনিক (Tonic) নামের ছেলেগুলো সেই দায়িত্ব বিনা স্বার্থে নেন। আমরা ব্যস্ততায় হোক বা যে কারণেই হোক, ভুলে যাই যে, আমাদের বাবা-মায়েরও একটি জীবন আছে। তারা কিছু সময়ও আমাদের কাছে দাবী রাখতে পারেন।


কিন্তু তখন হয়ে যাই ভিষণ খুঁতখুঁতে। বারবার বাবা কে ধমক দিয়ে হয়তো বলে দেই, “তোমার কি আর সেই বয়স আছে। বাসায় বসে থাকো না! আর ডাক্তারের কাছে নিয়মিত চেক-আপ করাবে।”



স্ক্রিনপ্লে
, ডিরেকশন ও ডায়ালগ

মোটেই একঘেয়েমি আসবে না। পরিচালক অভিজিৎ সেন তাঁর সুনিপন দক্ষতায় তুলে এনেছেন দূর্দান্ত কিছু দৃশ্য। দার্জিলিং ঘুরে দেখার আনন্দ দিয়েছেন যেন সেলুলয়েডের পাতায়। ঠিক যেন ফ্রেম ধরে ধরে কাজ করা হয়েছে। আর গল্পটি সত্যিই আনন্দের, আবেগের এবং ভালোবাসার।


আর ডায়ালগ সম্পর্কে শুধু একটি দুটো লাইন উল্লেখ করতে চাই,


– এই সিরাপ? তুই কই?

– মাসীমা আমি সিরাপ নই, টনিক!


এমন একটি ডায়ালগ নেই যেটাতে হাসি বা মজা না পায়। কিন্তু এর ছলে জটিল জীবনের যে ব্যাখ্যা তা বলে দিলেন পরিচালক।



টনিক (Tonic) মুভির রেটিং ও বক্স অফিস

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী টনিক মুভিটি আইএমডিবি -তে ১০ এ ৮ পেয়েছে। দর্শক এবং সমালোচকদের থেকেও পেয়েছে ভালো প্রতিক্রিয়া। মিলছে না টিকিট পর্যন্ত তাই বাধ্য হয়ে বৃদ্ধি করতে হয়েছে স্ক্রিন নং এবং শো সংখ্যাও। ঠিক এমনটাই জানাচ্ছেন, হিন্দুস্তান টাইমস্ বাংলা


এখন অবধি এই ছবিটির মোট ক্যালেকশন প্রায় ৫.২৫ কোটি রুপি। ইতোমধ্যেই মুভিটি বাংলা
সিনেমায় (কলকাতা) ALL Time Blockbuster এর খাতায় নাম লিখিয়েছে।


So, No Panic, Only Tonic!

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow