কীভাবে গড়ে তুলবেন, ধরে রাখবেন দু’জনের সম্পর্ক?

সংসার সুখী হয় রমনীর গুনে। আমাদের সমাজে সে রমনীকে স্বামীরা অবহেলা করেন, মনে করেন সংসার তার একজন দাসী এনেছে। অন্যদিকে অনেক স্ত্রী স্বামীকে জনসম্মুখে হেয় করেন। দু’জনের কাছে থেকে একে অপরে এমন আচরণ করা ঠিক না। এতে তাদের মধ্যে সুসর্ম্পক কখনো হবে না। সুসর্ম্পক গড়ে তোলার জন্য দু’জনের মধ্যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে হবে।

Jan 12, 2024 - 13:00
Jan 12, 2024 - 16:55
 0  142
কীভাবে গড়ে তুলবেন, ধরে রাখবেন দু’জনের সম্পর্ক?
কীভাবে গড়ে তুলবেন, ধরে রাখবেন দু’জনের সম্পর্ক?

বিয়ে বা একসাথে থাকা যা-হোক না কেনো দুজন মানুষের মধ্যে সর্ম্পক হচ্ছে জীবনের তৃপ্তিদায়ক জিনিস গুলোর একটি। একটা সর্ম্পক কিভাবে গড়ে ওঠে তার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নাই। তবে আমরা আজকে আপনাদের জানাবো কিভাবে সর্ম্পক গড়ে তুলতে হয় দুজনের মধ্যে।



১. 
ঝগড়া বিবাদ ভয় পাবেন না

ঝগড়া-বিবাদ মোকাবিলা করা আসল কথা। সেটা সবাই পারে না। নিজের মত প্রকাশ করতে গেলেই কিছু মতপার্থক্য হতেই পারে। সর্ম্পকের মধ্যে রকম সংঘাত খারাপ জিনিস তা সবসময় ভাবা ঠিক না। অনেক সময় দুজনে মধ্যে ঝগড়া সর্ম্পকের ভিত্তি মজবুত করে তুলে। একঘেয়েমি জীবনে চেয়ে মাঝে মধ্যে ঝগড়া খুনসুটি করা ভালো। এতে ভালোবাসা বাড়ে।



২. 
নিজের স্বাতন্ত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে

একটা সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়ে তার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলা সহজ কাজ। কিন্তু সে সর্ম্পকে থেকেও নিজের জন্য সময় বের করতে হবে। তার সাথে আপনার সঙ্গীকে পার্সোনাল স্পেস দিতে হবে। যেমন - আপনার নিজের শখ পূরন করলে, পছন্দের জায়গায় একা ঘুরতে গেলেন তেমন আপনার সঙ্গী ও তার শখ পূরন করলেন, ঘুরতে গেলেন।


এতে করে আলাদা সময় কাটানোর কারনে দু
জন দুজনকে মিস করবেন। এতে করে দুজনের সর্ম্পক মধুর হয়ে ওঠবে।



৩. 
দুজনে মিলে আনন্দ করুন

দুজনে মিলে সময় কাটানো মানে আমরা মনে করি স্বামী-স্ত্রী এক বাসাতে থাকা। স্বামী কাজে যাবে স্ত্রী রান্না করবে, ঘরের অন্যান্য কাজ করবে এটা বুঝি। দুজনে মিলে আনন্দ করা মানে একসাথে সময় কাটানো একে-অপরের সঙ্গ উপভোগ করা। তারপর উত্তেজনাপূর্ণ কিছু সময় পার করা, কিংবা বিছানায় অলস সকালে একসাথে সময় কাটানো।


ব্যস্ত জীবনে সঙ্গীকে নিয়ে সপ্তাহে ছুটির দিনে বাহিরে রেস্তোরাঁয় খেতে নিয়ে যাওয়া।
এতে করে আপনার সাথে আপনার সঙ্গীর গভীর সর্ম্পক গড়ে উঠবে।



৪. 
সুন্দর মূহুর্ত পালন করুন

সর্ম্পক ভালো করতে হলো আপনার সঙ্গীকে আপনি বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে উপহার দেবেন সুন্দর জায়গাতে ঘুরতে নিয়ে যাবেন। এতে সর্ম্পক গভীর হবে।



৫. 
আপনার সঙ্গীর প্রিয় মানুষগুলোকে সম্মান করুন

আপনি আপনার সঙ্গীর প্রিয় মানুষ গুলোকে ভালোবাসলে সর্ম্পক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। যেমন স্ত্রী তার স্বামীর বাবা, মা, ভাই, বোনকে ভালোবাসলে তেমনি করে স্বামী স্ত্রীর বাবা, মা, ভাই, বোনকে ভালোবাসলে।



৬. 
নিজের দুচিন্তা, ভয় গুলো শেয়ার করুন

আপনি যদি আপনার দুচিন্তা, ভয় অন্যর সাথে শেয়ার করেন এবং সাহায্য চান তাহলে অপরজনও আপনার কাছে সাহায্য চাইবে। আপনার যদি শারীরিক, মানসিক ভাবে দুর্বলতা গুলো শেয়ার করেন তাহলে আপনার সঙ্গী আপনাকে বুঝবে। সে অনুযায়ী আপনার সঙ্গী আপনাকে সাহায্য করবেন। দুচিন্তা, ভয় দূর করবেন।



৭. 
বিপদে সঙ্গীর পাশে থাকা

এমন স্ত্রী আছে যখন স্বামী অর্থ সম্পদ থাকে তখন স্বামী কে মাথায় করে রাখেন। আবার সে স্বামী আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন সে স্ত্রী স্বামী কে ছেড়ে যেতে একবারও ভাবেন না। তবে সব স্ত্রী রা এমন হয় না। কিছু কিছু যে বিপদে পাশে থাকে তারাই আসল সঙ্গী।


আর বিপদে স্বামীদের চেনা যায় যখন 
স্ত্রীর কোনো বড় রোগ হয় সে সময়। কারণ ঐ সময় তারা বউয়ের পাশে থাকতে চায় না। স্বামীদের ক্ষেত্রেও একি কথা বলব, কিছু কিছু স্বামী আছে ভালো।



৮.
সঙ্গীর পাশে সব সময় স্মার্ট থাকুন

আপনার সঙ্গীর কাজে আপনার স্মার্টনেস দেখাবেন। স্মার্ট ছেলে মেয়ে সবাই পছন্দ করে। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সামনে সুন্দর ভাবে আছেন তাহলে আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি ভালোবাসা গভীর হবে।



৯. 
সঙ্গীকে বিশ্বাস করা

স্বামী স্ত্রী দুজনে আলাদা পরিবেশে বড় হওয়া দুটি মানুষ। তাই এই দু পরিবেশের মানুষ একসাথে থাকতে পারে বিশ্বাস নামক সেতু বন্ধনের মাধ্যমে। তাই সঙ্গীর সাথে সুসর্ম্পক গড়ে ওঠার মাধ্যম হলো বিশ্বাস।



১০. 
শেয়ার করা

স্বামী-স্ত্রী মধ্যে কাজ গুলো শেয়ার করা উচিত। যেমন, আমাদের সমাজে বলে ঘরের কাজ মেয়েদের আর বাহিরের কাজ পুরুষদের এটা ভুল ধারণা। ঘরের কাজে স্বামীরা বউকে সাহায্য করলে বরং দুজনের মধ্যে মহব্বত বাড়ে।



১১. দায়িত্ব ভাগাভাগি করা

সংসারে দুজনে চাকরি করলে একজনের উপর চাপ কমে। ফলে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়। এতে করে সর্ম্পক ভালো থাকে। ধন্যবাদ


Image Credit: Image By freepik

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

সেলিনা আকতার অভিযাত্রী তে আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার।