বিশ্বের সব ডাইমন্ড কেন ভারতে আসে?

সিএনএন এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৮০ বছর ধরে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস বিল্ডিং এবং ইউএসএ সেনাদপ্তর পেন্টাগন থেকেও বড়। এবং বর্তমান সময়ে সবচাইতে বড় অফিস বিল্ডিং। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিল্ডিং বলা হলেও সুরাট ডায়মন্ড বুটস এর আলাদা নয়টি ভবন রয়েছে একটি মজার বিষয় হল ১৫ তালা বিশিষ্ট এই ভবনগুলোতে  ১৩ তম তালা বলে কোন ফ্লোর নেই কারণ ডায়মন্ড  ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৩ সংখ্যা নিয়ে একটা কুসংস্কারও আছে।

Mar 4, 2024 - 17:00
Mar 4, 2024 - 10:21
 0  20
বিশ্বের সব ডাইমন্ড কেন ভারতে আসে?
বিশ্বের সব ডাইমন্ড কেন ভারতে আসে?

প্রায় ৮০ বছর ধরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অফিস বিল্ডিং হিসেবে ইউএসএ সেনা দপ্তর পেন্টাগন হিসেবে পরিচিত থাকলেও সম্প্রতি ভারতের গুজরাটে সুরা ডায়মন্ড বুটস সর্ববৃহৎ অফিস বিল্ডিং হিসেবে পরিচিত পায়। ৭০ লক্ষ স্কয়ার ফিট এর এই অফিস কমপ্লেক্সে ৯টি আয়তাকারে বিল্ডিং একটি সিঙ্গেল ক্যারেটর মাধ্যমে কানেক্টেড।


বিল্ডিংটি ভারতে আসা সকল ডায়মন্ড কাটিং পলিশিং ও ট্রেডিংয়ে একটি সেন্ট্রাল খাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ভারত ডায়মন্ড ট্রেডিং এর জন্য এত বড় অফিস বিল্ডিং কেন তৈরি করলো? আপনার কাছে যদি হীরার বড় একটা আংটি বা হার থেকে থাকে তাহলে তার বড় একটা সম্ভাবনা আছে সেটি কোন না কোন ভাবে ভারতের সাথে কানেক্টেড।


কেননা বিশ্বের ১৫টি ডায়মন্ড জুয়েলারি মধ্যে ১৪টি তে বসানো ডায়মন্ড ভারত থেকে আসতেছে। ধারণা করা হয়, প্রায় তিন হাজার বছর আগে ভারতে উপমহাদেশে হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। সে সময় ভারতের বেশিরভাগ ডায়মন্ড ছিল অন্ধপ্রদেশের পান্না ও কৃষ্ণ নদী উপত্যাকায় এই অঞ্চলের বিভিন্ন মাইন থেকে কোহিনুর থেকে শুরু করে নিজাম হোপ রিজেন্ট এবং গ্রেট মোগল ডায়মন্ড’ এর মত অমূল্য রতনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল।


ডায়মন্ড মাইনের  জন্য পান্না এবং কৃষ্ণ নদীর উপত্যাকায় পাশাপাশি ট্রেডিং এর জন্য গোলকান্দা রিজেন্ট ছিল পরিচিত যা বর্তমানে হায়দ্রাবাদে অবস্থিত। ভারতে উপমহাদেশে দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে মেজর ট্রেড রোড গুলো গোলকান্দা একটি সেন্ট্রাল লোকেশন হওয়াই সেটি তৎকালীন সময়ে একটি ট্রেডিং সেন্টার হয়ে ওঠে এবং এই ডায়মন্ডস গুলো গোলকান্দা ডায়মন্ডস নামে পরিচিতি পায়।


এদিকে ডায়মন্ড কাটিং ও পলেসিং শুরু হয় ১৪০০ শতাব্দীতে বেলজিয়ামের এনটপ শহরে। যার কারণে ভারতের বেশিরভাগই আনকাট ডায়মন্ড কাটিং এবং পলিসিং এর জন্য ইউরোপের বেলজিয়ামে নিয়ে আসা হত। ভারতে ডায়মন্ড ট্রেডিং এতটাই জনপ্রিয় হয়ে গেছে যে, ১৮০০  শতাব্দী পর্যন্ত বিশ্বে একমাত্র ডায়মন্ডের সোর্স ছিল ভারত।


যদিও তত দিনে ট্রেডিং এর পাশাপাশি ডায়মন্ড কাটিং ও পলিসিং শুরু হয়। ২০০০ বছরের বেশি সময় ধরে মাইনিং এর প্রভাবে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে ব্রাজিলে ডায়মন্ড মাইন আবিষ্কার হলে ধীরে ধীরে ভারতের ডায়মন্ড মাইন এবং ট্রেডিং কমে আসে। যদিও ততদিনে ভারতের পান্না নদীর উপত্যকায় সর্বপরিসরে ডায়মন্ড মাইন হয়ে আসছিল।


কিন্তু ততদিনে গ্লোবাল ডায়মন্ড ট্রেডিং এর হাফটি বেলজিয়ামের এনটপ শহরে জুয়িশ ব্যবসায়ীদের হাতে শিফট হয়ে যায়। ফলে ১৯৬০ এর দশকের আগে পর্যন্ত বিশ্বের বেশিরভাগই ডায়মন্ডই বেলজিয়ামের এন্টপে কাটিং বা পলিসিং হতে। ১৯৬০ এর দশকে ভারতের কিছু ব্যবসায়ী এনটপ থেকে লো কোয়ালিটি ডায়মন্ড ভারতে আমদানি করা শুরু করে।


ভারতের লেবার খরচ কম হওয়ার কারণে এই লো কোয়ালিটি ডায়মন্ড পলিসিং কাটিং শেষে গ্লোবাল মার্কেটে ভালো দামে বিক্রি করা যেত। যদিও এই লো কোয়ালিটি ডায়মন্ড তা কেটে কাটিং করতে সম্পন্ন যে প্রসেসটি ছিল তা ম্যানওলি করা হতো বিধায় সেটা ছিল খুব কষ্টসাধ্য এবং সময়ের সাপেক্ষ কিন্তু ধীরে ধীরে ভারতের কারিগর দক্ষ হয়ে উঠলেন এই কাজে কম খরচে বেশি ডায়মন্ড প্রসেসিং এর জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে রাফ ডায়মন্ড কাটিং এবং পলিসিং এর জন্য ভারতে আসতে থাকে আর ধীরে ধীরে  ভারত সেন্ট্রাল কাটিং এবং পলিশিং এর জন্য বিখ্যাত হতে থাকে।


ভারতে বিশ্বের ৯০% ডায়মন্ড কাটিং এবং পলিসিং করা হয়। গুজরাটের সুরা থেকে ডায়মন্ড প্রসেস শেষে সে গুলো ট্রেনে করে মুম্বাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ডায়মন্ড বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক্সপোর্ট করা হয়। দেশটির সম্পূর্ণ ডায়মন্ড প্রসেসিং এবং এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ কে একত্রিত করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে গুজরাটের সুরাটে ডায়মন্ড রিসার্চ এবং মার্চেন্ট সিটি যার সংক্ষেপে ড্রিম সিটি নামে একটি বিজনেস ডিসটিক প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


সেখানে সারা ভারতের ছরিয়ে ছিটে থাকা আন-অর্গানাইজাস্ট ও অর্গানাইজাস্ট ডায়মন্ড মার্চেন্ট সুরাটে একটা ডায়মন্ড ট্রেনিং এর আওতায়  নিয়ে আসা হবে। সেই লক্ষ্যে প্রায় ৩৬ একর  জমিতে সুরার ডায়মন্ড বুটস এর কাজ শুরু হয়। প্রায় ৭১ লাখ স্কোয়ার ফিটের স্থাপনা তৈরি করতে প্রায় খরচ করেছে ৩২শ কোটি রুপি।


সিএনএন এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী
, প্রায় ৮০ বছর ধরে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস বিল্ডিং এবং ইউএসএ সেনাদপ্তর পেন্টাগন থেকেও বড়। এবং বর্তমান সময়ে সবচাইতে বড় অফিস বিল্ডিং। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিল্ডিং বলা হলেও সুরাট ডায়মন্ড বুটস এর আলাদা নয়টি ভবন রয়েছে একটি মজার বিষয় হল ১৫ তালা বিশিষ্ট এই ভবনগুলোতে  ১৩ তম তালা বলে কোন ফ্লোর নেই কারণ ডায়মন্ড  ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৩ সংখ্যা নিয়ে একটা কুসংস্কারও আছে।


ডায়মন্ড কাটিং অ পলিশিং এ ভারতের আধিপত্যের কারণ হচ্ছে তাদের কস্টিং খরচ অনেক কম। সিএনবিসি এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকাতে প্রতি ক্যারেট ডায়মন্ড এর কস্টিং খরচ করে ১০০ ডলার সেখানে ভারতে খরচ করে ১০ ডলার অর্থাৎ ১০ ভাগের এক ভাগ। প্রোডাকশন কাস্টিংয়ের এত তারতম্যর কারণ হচ্ছেএখানে অনেক সস্তায় লেবার পাওয়া যায়।


২০০০ সালের পর থেকে ভারতে ডায়মন্ড কাটিং এবং পলিসিং এর জন্য উন্নত মানের টেকনোলজি প্রয়োগ  করা হলে কারিগরেরা খুব দ্রুত এগুলোর উপর দক্ষ হয়। যে কারণে দেশ টি তে ডায়মন্ড পলিসিং ও পলিসিং এর উপর প্রচুর পরিমাণ স্কিল ও সেমস্কিল লেবার ফোর্স আছে মূলত এত বেশি লেবার ফোর্স থাকার কারণে এ চাকরি বাজারে অনেক চাহিদা।


প্রায় সকল ধরনের পণ্য উৎপাদন করার ক্ষমতার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে নিত্যপূর্ণ জিনিসের দাম তুলনামূলক অনেক কম। ফলে পশ্চিমা দেশের তুলনায় ভারতের মানুষ তুলনামূলক কম খরচে জীবনযাপন করতে পারতেছে।


মূলত এ কারণে ডায়মন্ড ব্যবসায়ীরা  খুব সহজে এবং খুব কম খরচে লেবার সোর্স  পেয়ে থাকে। আবার দেশটিতে ডায়মন্ড কাটিং এবং পলিসিং এর জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যাতে করে ডায়মন্ডের মান আরো খুব সহজভাবে কিভাবে ডায়মন্ড কে সহজভাবে চেনা যায় এবং ডায়মন্ডের উন্নতির লক্ষ্যে আরো নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছে ভারত সরকার।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

মোঃ মামুনুর রশীদ সাগর আমি অভিযাত্রী তে একজন কন্টেন্ট রাইটার।