আয় না থাকলেও করের বিধান অযৌক্তিক

নতুন বাজেটের কর আইন অনুসারে টিআইএনধারী সকলকে রিটার্ন দাখিলের সময় ২ হাজার টাকার কর দিতে হবে। অন্যদিকে সাধারণ ভাবে জনগণের আয় করের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা কয়েছে।

Mar 3, 2024 - 12:00
Mar 3, 2024 - 23:58
 0  18
আয় না থাকলেও করের বিধান অযৌক্তিক
আয় না থাকলেও করের বিধান অযৌক্তিক

প্রথম প্রকাশ: ৭ জুন, ২০২৩

প্রতিটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজেট। এটির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় দেশের মানুষরা কতটা আর্থিক ভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারবে। গত বছরের তুলনায় এবার বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন শুক্ল আরোপের ফলে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমেছে আবার কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।


তবে দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের থেকে বিভিন্ন ব্যাপারে কর আরোপ করে সরকার। এবার আয় করের নতুন আইন করার পর থেকে বেশ সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সাধারণ মানুষের আয় করের সীমা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হলেও টিআইএন (TIN) ধারী সকলের জন্য একটা নূন্যতম করের বিধান করা হয়েছে। যেখানে কর দেওয়ার মতো আয় না থাকলেও সরকারী সেবা গ্রহণের জন্য তাকে নূন্যতম কর দিতে হবে।


এবারের বাজেট

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫২তম বাজেট ঘোষণা করেছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগের অর্থবছরের চেয়ে ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বড়। এতে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ ধরা হয়েছে। এই বাজেটে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ঘাটতি রেখে প্রস্তাব করা হয়েছে। এবার ৫ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।


জানা যায়, সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমানে টিআইএন ধারী করদাতার সংখ্যা প্রায় ৮৮ লক্ষ। কিন্তু আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৩২ লক্ষ। গত বছরের তুলনায় এটি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সেটি আশানুরূপ নয় বলে মনে করা হচ্ছে।


ন্যূনতম আয় করের নতুন হিসেব

নতুন বাজেটের কর আইন অনুসারে টিআইএনধারী সকলকে রিটার্ন দাখিলের সময় ২ হাজার টাকার কর দিতে হবে। অন্যদিকে সাধারণ ভাবে জনগণের আয় করের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা কয়েছে। কিন্তু সরকারি ৪০টির বেশি সেবা গ্রহণের সময় আয় কর সার্টিফিকেট দেখা হয়। সেটির নেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তির আয় কর যোগ্য না হলেও তাকে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা দিতে হবে।


কর আদায়ের নতুন এই আইন অনেকটা অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। কারণ দেশে মূল্যস্ফীতি এখন অনেক বেশি যাতে সাধারণ মানুষ বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। এরইমধ্যে রিটার্ন দাখিলের সময় দুই হাজার টাকা দিতে এক রকম বাধ্য করা হলে
, রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা আগের চেয়ে কমে যেতে পারে। কারণ যার কাছে টাকাই নেই সে কীভাবে রিটার্ন দাখিল করবে।


দেশের ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের টিআইএন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাড়ি, গাড়ির জন্য। এই আইনে সাধারণ মানুষদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। কিন্তু যাদের এই নম্বর রয়েছে তারা বেশি ঝামেলায় পরবে।


যাদের কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন নম্বর আছে। তাদেরই শুধু বছর শেষে আয়ের হিসাব দিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এক তৃতীয়াংশ মানুষ এরকম রিটার্ন দাখিল করেন। আগের অর্থ বছরে সরকারি ৩৮ সেবা গ্রহণের জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হলেও রিটার্ন দাখিলের পরিমাণ বাড়েনি। এবার আরো বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে ৪৪টি সেবা গ্রহণের জন্য রিটার্ন দাখিলের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


নতুন এই আইনের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে অনেক করদাতার প্রকৃত আয় কমে গেছে। মানুষ যাতে কর দেবার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দবোধ করে সেটির কথা চিন্তা করে ব্যক্তিশ্রেনীর আয়কর সীমা বাড়ানো হয়েছে। আর ন্যূনতম করের বিধান করা হয়েছে।


সার্বিক বিবেচনায়ও করের নতুন আইনের কার্যকারীতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। আসলে এটি কার্যকর হবে কিনা সেটি নিয়ে শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তারা। আর তাদের শঙ্কা সত্য হলে রাজস্ব বৃদ্ধির বিপরীতে কমে যাবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

আব্দুস সবুর (লোটাস) ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানার চেষ্টায় রয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও ভাবনাগুলো লিখতে ভালোবাসি।