যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলা শুরু

ইতিহাসে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মাঝের সম্পর্কের বরফ জমেছিল। তবে ইদানিং সেই বরফ গলতে শুরু করেছে।

Mar 4, 2024 - 12:00
Mar 4, 2024 - 06:22
 0  18
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলা শুরু
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলা শুরু

প্রথম প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৩

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশলী দেশের তালিকায় সবার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। এটি নিয়ে খুব বেশি দ্বন্দ্ব নেই। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও পরবর্তীতে সবচেয়ে বেশি সহযোগীতা সেই দেশই করেছে।


ইভেন সর্বশেষ করোনার সময় যখন সারা পৃথিবীজুড়ে ভ্যাকসিনের হাহাকার তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রথম বিন্যমূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রফতানি বাণিজ্য হয়। এদিকে আধুনিক পররাষ্ট্রনীতির মূল হলো অর্থনীতি।


যে দেশের সঙ্গে অন্য দেশের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বেশি তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক এমনিতেই হয়ে যায়। তবে দেশের কিছু মিডিয়া মার্কিন বিরোধী সংবাদ সর্বদা প্রচার করে আসছে। এটিসহ নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছে।


বাংলার আঞ্চলিক প্রবাদে প্রচলিত আছে মোড়লে-মোড়লে গণ্ডগল হলে লাভ হয় চাষার। আসলে গ্রামের মোড়লদের মধ্যে যখন ঝামেলা হয় তখন মধ্যস্থতাকারী ও আশেপাশের লোকজনদের বেশি লাভ হয়। তেমনটা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের।


বৈশ্বিক মেরুকরণ হওয়ার ফলে সম্প্রতি পুতিনের বিপজ্জনক বিদ্যুৎ ও চীনা ঋণের অজস্র বিনির্মাণ প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার অতি উৎসাহে লিপ্ত। তাই মার্কিন সম্পর্ক আরও তিক্ত হলো। এমন হওয়ার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল না।


রাশিয়ার তেল সারা পৃথিবীর অনেক দেশই গ্রহণ করে থাকে কিন্তু কয়জনকে ইউক্রেন আগ্রাসনের সময় পেয়েছে। যারা যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাদের মিত্র কিন্তু রাশিয়ার জিনিসপত্র নেয়, তারাও রাশিয়ার পক্ষে কথা না বলে যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোকে সমর্থন দিয়েছেন।


সর্বশেষ জাতিসংঘে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য জাতিসংঘে রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। যদিও তারা রাশিয়ার থেকে বিশাল তেল নিয়ে থাকে। কিন্তু বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের কথা ভুলে যায়নি তারা। কিন্তু এসব জায়গায় কথা বলতে বাংলাদেশ সহস দেখায়নি। এতে বরং আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে।


অপ্রাসঙ্গিক আলাপ

বাংলাদেশের এমপি ও মন্ত্রীদের স্বভাব রয়েছে দেশের বাইরে ও ভিতরে খুবই অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলার। এটির কারণে অনেক সময় কূটনৈতিক দিকে ভাটা পড়ে। এছাড়া বর্তমানে কূটনীতির মূল বিষয় হলো অর্থনৈতিক লাভের দিক দেখা। সেটা বাদ দিয়ে অযথা প্রশংসা বা অন্যের নামে বদনাম এটি আরো বেশি খারাপ হয় দেশের জন্য।


কিছু দিন আগে দেশের বেশ কিছু মিডিয়া কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়া মার্কিন সম্রাজ্যের পতন ও চীনের অধিপত্য বাড়ছে এসব নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা তৈরি করে।  এতে আমাদের রফতানির বাজারের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আগের চেয়ে খারাপ হচ্ছে।


মুক্তিযুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমানের রাশিয়ার বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। তখন বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক একটা মেরু করণ হচ্ছিল সেদিক থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তেমন একটি রাষ্ট্র গঠনের অলিখিত কথা ছিলো, যেটির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সহযোগীতার জন্য নানা কিছু করে রাশিয়া


কিন্তু বর্তমানের তাদের অবস্থা ভিন্ন ফলে তৎকালীন চেতনা বিশ্বমঞ্চে বার বার টেনে নিয়ে আসার প্রয়োজন খুব বেশি নেই। এতে বরং দেশের মঙ্গল হবে।


অন্যদিকে বাংলাদেশের সব উন্নয়নের মেগা প্রকল্প চীন ও রাশিয়ার তত্ত্ববধায়নে হচ্ছে। যেমন: পদ্মাসেতু, কর্ণফুলি ট্যানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ আরো কয়েকটা প্রকল্প সবগুলো তাদের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে।


এতে আমাদের রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আগের সম্পর্কে থেকে বরফ গলা শুরু হয়েছে। কারণ আমাদের দেশের আমদানি বাজার ক্রমেই চীন ও রাশিয়ার দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে নানা ভাবে আগের চেয়ে কম লাভবান হচ্ছে তারা।


বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র ভালো রাখতে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র স্যাংশন দিয়েছে। এছাড়া আগামী নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ সজাগ রয়েছে। কোনো ভাবে নির্বাচনে ঝামেলা হলে বা গ্রহণযোগ্য না হলে তারাও নানা ভাবে মুখ ফিরিয়ে নিবে।


আসলেই যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে রফতানি আয় যে কি হবে সেটি বলা কঠিন হচ্ছে। খুবই বাজে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন হতো না যদি বাংলাদেশের অন্য কোনো দিকে বাজার ধরা থাকত কিন্তু সেটিতেও বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে।


ফলে আমাদের আগের বাজার থেকে অন্য কিছু এত দ্রুত ভাবা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এই বাজার ধরে রাখার জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। এটি ছাড়া আমাদের দেশ ও অর্থনীতির জন্য বেশ বড় হুমকি আসতে পারে।


এছাড়া সাম্রাজ্যবাদী সময়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতর জন্য আমাদের স্বয়ংসম্পন্ন হওয়া উচিত। এতে দেশের অন্য কোনো দেশের প্রতি তাকিয়ে থাকতে হবে না। এটির জন্য দেশের সকল সম্পদের সঠিক ব্যয় ও বণ্টন করতে হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

আব্দুস সবুর (লোটাস) ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানার চেষ্টায় রয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও ভাবনাগুলো লিখতে ভালোবাসি।