মণিপুরে জনজাতি দাঙ্গায় নারীদের যৌন হয়রানির ভিডিও প্রকাশ্যে

ভারতের মণিপুর রাজ্যে দুজন কুকি নারীকে নগ্ন করে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘোরানোর অভিযোগ পাওয়া উঠেছে। যাদের মধ্যে একজনকে নানা ভাবে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

Mar 4, 2024 - 14:00
Mar 4, 2024 - 06:44
 0  19
মণিপুরে জনজাতি দাঙ্গায় নারীদের যৌন হয়রানির ভিডিও প্রকাশ্যে
মণিপুরে জনজাতি দাঙ্গায় নারীদের যৌন হয়রানির ভিডিও প্রকাশ্যে

প্রথম প্রকাশ: ২৪ জুলাই, ২০২৩

ভারতের মণিপুর রাজ্যে দুজন কুকি নারীকে নগ্ন করে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘোরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে একজনকে নানা ভাবে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এ ঘটনা নিয়ে বলিউডের সুপারস্টার কিয়ারা আদভানী ও অক্ষয় কুমার টুইট করে বিচারের দাবি করেছেন। এদিকে এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


তিনি বলেছেন
, “ওই দৃশ্য দেখে তাঁর হৃদয় দুঃখে ও ক্রোধে ফুঁসছে। মণিপুরে নারীদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা কখনো ক্ষমা করা হবে না।” এছাড়া এ ঘটনায় বেশ প্রতিবাদ হয়েছে ভারতীয় পার্লামেন্টে। একই সঙ্গে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলছে, “চরম সাংবিধানিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সরকার যদি কোনও ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তারা নিজে থেকেই পদক্ষেপ নেবে।”


সেদিন যা ঘটেছিল সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ভিডিওটি মিথ্যা নয় বলে স্বীকার করেছে মণিপুর পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায় রাস্তায়
কুকি-জোমি সম্প্রদায়ের দুজন নারীকে নগ্ন করে হাঁটানো হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশ থেকে তাদের নানা ভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।


যাদের হাঁটানো হয়েছে তাদের মধ্যে একজনের বয়স ছিলো বেশ কম মাত্র কুড়ি বছর। আর আরেক জনের বয়স ছিলো ৪০ বছরের কাছাকাছি। রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে নির্যাতনের পর তাদের শরীরের মধ্যে খামচিও দিয়েছে অনেকে। পরবর্তীতে তাদের একটি ক্ষেতে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এ ঘটনার অভিযোগ পত্রে বলা হয়, দিনের বেলা তাদের ওপর নির্যাতনের পর গণধর্ষণ করা হয়।


এর আগে কাংপোকপি জেলায় তাদের গ্রাম যখন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল
, তখন প্রাণে বাঁচতে তারা পরিবারের কয়েকজন মিলে কাছের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা একটু দূরে যেতেই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নেয়। কিন্তু পুলিশ তাদের থানার পথে নিয়ে গেলে কিছু উত্তেজিত জনতা তাদের আটক করে এবং নারীদেও ছিনিয়ে নেয়।


ভুক্তভোগী নারীরা জানান
, “তাদের উদ্ধারকারী পুলিশ আসলে হামলাকারীদের সঙ্গেই ছিল। পুলিশ আসলে হামলাকারীদের সঙ্গেই ছিল। তারাই বরং উদ্ধার করে উত্তেজিত জনতার মধ্যে তাদের ছেড়ে দেয়। তাদের দাবি, “পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় না নিয়ে বরং জনগণের হাতে তাদের তুলে দিয়েছে।”


এ বিষয়ে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং বলেছেন
, “নারীগের নির্যতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের যেনো ফাঁসি হয় সেটির চেষ্টা করা হবে।” গত ৩ মে থেকে মণিপুরে সংখ্যাগুরু মেইতেই ও সংখ্যালঘু কুকিদের মধ্যে যে রক্তাক্ত জাতি-সংঘাতের দুদিন পরই এ ঘটনা ঘটে।


ঘটনার পর পার্লামেন্টের বাইরে অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী অবশেষে মণিপুরের ঘটনায় নীরবতা পালন করেন।


পরবর্তীতে তিনি বলেন
, “আমি যখন গণতন্ত্রের মন্দিরের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে, আমার হৃদয় গভীর যন্ত্রণা আর ক্রোধে ভরে উঠেছে। মণিপুরের ঘটনা যে কোনও সভ্য রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক আমাদের গোটা দেশ এর জন্য লজ্জিত।” তবে এ ঘটনায় বিরোধী কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে সব কিছুর আগে মণিপুরের বিষয়ে একটা সমাধানের আলাপ চায়।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

আব্দুস সবুর (লোটাস) ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানার চেষ্টায় রয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও ভাবনাগুলো লিখতে ভালোবাসি।