রাবিতে সাজ্জাদের লেবুর পিনিকে মজেছেন শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা ধরনের জনপ্রিয় খাবার রয়েছে। কিন্তু লেবু পিনিকের নামের জনপ্রিয় খাবারের কথা হয়তো এখনো অনেকে জানেন না। আসলে এটি কেমন বা কি ধরনের খাবার  খেতে  কেমন ইত্যাদি প্রশ্ন মাথায় আসতে পারে। তবে এটি কোনো জটিল বা কঠিন প্রক্রিয়ায় তৈরি খাবার নয়। বরং এটি কিছুটা স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার।

Mar 4, 2024 - 15:00
Mar 4, 2024 - 06:55
 0  21
রাবিতে সাজ্জাদের লেবুর পিনিকে মজেছেন শিক্ষার্থীরা
রাবিতে সাজ্জাদের লেবুর পিনিকে মজেছেন শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা ধরনের জনপ্রিয় খাবার রয়েছে। কিন্তু লেবু পিনিকের নামের জনপ্রিয় খাবারের কথা হয়তো এখনো অনেকে জানেন না। আসলে এটি কেমন বা কি ধরনের খাবার  খেতে  কেমন ইত্যাদি প্রশ্ন মাথায় আসতে পারেতবে এটি কোনো জটিল বা কঠিন প্রক্রিয়ায় তৈরি খাবার নয়। বরং এটি কিছুটা স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনের আমতলার একটি ভ্রম্যমান দোকানে এই খাবার পাওয়া যায়।


শুধু এটিই নয়, আরো ৮ ধরনের বাহারি স্বাদের খাবার পাওয়া যায়। এই অদ্ভুত নামের খাবার গুলো বিক্রি করেন সাজ্জাদ হোসেন নামের এক দোকানী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নগরীর কাজলা এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। এসব মুখরোচক খাবার বিক্রি করেই চলে তার সংসার।


এই দোকানে আরো যেসব খাবার পাওয়া যায়
, বারো ভাজা, ভাঙচুর, লেবুচুর, লেবু পিনিক, ঝালমুড়ি, বাদাম মাখা, বোম্ববাজা, নিমকি মাখা ইত্যাদি। প্রত্যেকটা আইটেমের দাম ১০ টাকা নির্ধারণ করা। এসব খাবারের মধ্যে লেবুচুর, লেবু পিনিক ও বারো ভাজা শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে। খাবার গুলোর ভিন্নধর্মী স্বাদের মাধ্যমেই মুখরোচক খাবার প্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন


খাবার তৈরির প্রক্রিয়া

সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অদ্ভুত খাবার হলো লেবু পিনিক। এটি খুব সহজেই তৈরি করা যায়। শুরুতে একটি ভালো সাইজের লেবু পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তারাপর এটিকে স্লাইস করে কাটতে হবে। এরপর প্রতিটি স্লাইসে বিট লবন ও মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় জনপ্রিয় লেবু পিনিক। এটি খাওয়ার পর মুখে দীর্ঘ সময় লেবুর স্মেল ও তিক্ত স্বাদ লেগে থাকার কারণে সবার প্রিয় এটি।


লেবুচুর তৈরির প্রক্রিয়া লেবু পিনিকের চেয়ে একটি কঠিন। তবে খুব বেশি জটিল নয়। শুরুতে কুচি কুচি করে কাটা হয় লেবু, মরিচ, পেঁয়াজ। এরপর সেগুলোকে রাখা হয় বড় একটি পাত্রে। সেখান থেকে পরিমাণ মতো উপাদান প্লাস্টিকের মগে নিয়ে সঙ্গে ছোলা, বুট, চানাচুর, নিমকি, মসলা দিয়ে মাখানোর মাধ্যমেই। এভাবেই তৈরি করা হয় লেবুচুর। আবার আস্ত একটা লেবুকে গোল গোল লেবুচুর তৈরি করা হয়।


ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, “ক্লাস টাইমের শুরু থেকেই সাজ্জাদের দোকানে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়।  বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিড় বেড়েই যায়। অনেকে ক্লাসের ফাঁকে টক ঝালের স্বাদ নিতে এখানে ভিড় জমায়।” গাছের শীতল ছায়ায় নিজেকে জুড়িয়ে এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডায় মেতে থাকেন অনেকেই।


লেবু পিনিক কেনো খান জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলেন, “স্বাভাবিক ভাবেই লেবু খেতে ভালো লাগে। তবে ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর সাজ্জাদ ভাইয়ের লেবু পিনিকের কথা জানতে পারি। খাওয়ার পর থেকে অদ্ভুত এই স্বাদের ফ্যান হয়ে গেছি। নিয়মিত সাজ্জাদ ভাইয়ের লেবু পিনিক খাওয়া হয়। এটির মধ্যে অদ্ভুত এক ধরনের স্বাদ আছে যেটি আসলে বলে বুঝানো সম্ভব নয়। খাওয়ার পর এটি ভালো বোঝা যায়।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের একজন শিক্ষার্থীর লেবুচুর খাওয়ার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে ক্যাম্পাসে বড় ভাইয়েরা থাকার সুবাদে নানা সময় আসা হয়। তাদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা দেওয়া হয়। এর মাঝে একদিন ছোট্ট দোকানে গিয়ে দেখি অনেকে ভাজার মতো একটা জিনিস খাচ্ছেন যার নাম আবার লেবুচুর। নাম শোনার পর থেকে খাবারের প্রতি আগ্রহ হয় এবং খাওয়ার পর বেশ ভালোই লাগে। এখন ক্যাম্পাসে আসলে সাজ্জাদ ভাইয়ের লেবুচুর নিয়মিত খাওয়া হয়। এটি ভিন্ন ধরনের একটা স্বাদ দেয়।”


সাজ্জাদ বলেন, “এখানে বিভিন্ন ধরনের আটটি খাবারের আইটেম পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি খাবারই বেশ জনপ্রিয় ও সুস্বাদু। আমার কিছু নিয়মিত কাস্টমার আছে তারা প্রতিদিনই এখানে আসেন খেতে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরাও আসেন এখানে। ক্যাম্পাসের পড়ালেখা শেষ করে চলে গেছেন এমন অনেকেই এখনো ক্যাম্পাসে আসলে আমার দোকানে ঝালমুড়ি খেতে আসেন


খাবারের অদ্ভুত সব নামের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সাজ্জাদ বলেন, “লেবু পিনিক মূলত লেবু দিয়ে তৈরি করা হয়। লেবুর স্বাদ দীর্ঘ সময় মুখে থাকার ফলে ভিন্ন রকমের একটা অনুভূতি হয়। এই জন্য এই খাবারের নাম লেবু পিনিক রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্য সব খাবারের স্বাদ তৈরির জন্য আমার বিভিন্ন রকম পরীক্ষা করতে হয়েছে। নতুন স্বাদের জন্য মসলার কিছু কাস্টমাইজ ধরন নিজে তৈরি করেছি। এটির মাধ্যমে অন্য যে কোনো দোকানের তুলনায় আমার এখানের খাবারের স্বাদ ভিন্ন হয়।”

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

আব্দুস সবুর (লোটাস) ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানার চেষ্টায় রয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও ভাবনাগুলো লিখতে ভালোবাসি।