এক নিঃশ্বাসে অরুন্ধতী রায় এর ‘দ্য গড অব স্মল থিংস (The God of Small Things)’ বইটি পড়ুন

‘দ্য গড অব স্মল থিংস (The God of Small Things)’ বইটি প্রকাশের পর বেশ সমালোচিত হয় আবার একই সাথে বইটি বুকার পুরষ্কার পায়। এই উপন্যাসটি পারিবারিক জটিলতা নিয়ে এক ধরণের নাটকীয়তা আমাদের কাছে প্রকাশ করে।

Mar 26, 2024 - 09:00
Mar 26, 2024 - 00:33
 0  26
এক নিঃশ্বাসে অরুন্ধতী রায় এর ‘দ্য গড অব স্মল থিংস (The God of Small Things)’ বইটি পড়ুন
এক নিঃশ্বাসে অরুন্ধতী রায় এর ‘দ্য গড অব স্মল থিংস (The God of Small Things)’ বইটি পড়ুন

প্রিয় পাঠক, আমার আজকের টপিক হচ্ছে বুকার পুরষ্কার জয়ী বই ‘দ্য গড অব স্মল থিংস (The God of Small Things)’ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং সামান্যতম বিশ্লেষনও বটে। এই বইটি লিখেছেন ‘অরুন্ধতী রায়’।



বই সংক্ষেপ: ‘দ্য গড অব স্মল থিংস (The God of Small Things)’

প্রকাশকাল: ১৯৯৭

লেখা হয়েছে: ১৯৯২-১৯৯৬, স্থান: নতুন দিল্লি

সেটিং: ভারতের কেরালা রাজ্য

পয়েন্ট অব ভিউ: তৃতীয় ব্যক্তি সর্বজ্ঞ

১৯৯৭ সালে এই বইটি বুকার পুরস্কার পায়


সমসাময়িক এই সাহিত্যের ধারার মধ্যে আরো একজন বিখ্যাত লেখকের নাম চলে আসে, তিনি হলেন, ‘সালমান রুশদি (ঔপন্যাসিক)’। আর অরুন্ধতী রায় সালমান রুশদি’র দ্বারা বেশ প্রভাবিত।


এই উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই কীভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলো বড় বড় সমস্যার কারণ হতে পারে অথবা, বড় কিছু ঘটতেও পারে। একই সাথে এখনো ভারতের কিছু কিছু রাজ্যে ‘মার্কসবাদ (Marxism)’ কায়েম আছে।


‘দ্য গড অব স্মল থিংস (The God of Small Things)’ বইটি প্রকাশের পর বেশ সমালোচিত হয় আবার একই সাথে বইটি বুকার পুরষ্কার পায়। এই উপন্যাসটি পারিবারিক জটিলতা নিয়ে এক ধরণের নাটকীয়তা আমাদের কাছে প্রকাশ করে।


কাহিনী শুরু হয় ১৯৬৯ সাল থেকে একলাফে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। মানে বর্ণনা করার স্টাইল হচ্ছে, কখনো কখনো ১৯৬৯ সালের অবস্থান বিবেচনায় এবং কখনো কখনো ১৯৯৩ সালের অবস্থান বিবেচনায়। যদি পুরো উপন্যাস কে ভাগ করা হয় তাহলে এই উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালের সময়কে বেশি সময় দেয়।


আমাদের সমাজ আমাদের জন্য একটা গদবাধা নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। আপনি কখন এবং কাকে কতটুকু ভালোবাসবেন সেটা যেন সমাজের নিয়মতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে হয়।


“Who should be loved, and how. And how much.”


আর এখানেই এই উপন্যাসটি হিট করে, মানে এই চলমান গদবাধা নিয়ম কে ভেঙ্গে ফেলে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, “আচ্ছা, আমাদের কি সমাজের এই নিয়ম মেনে তবেই কাউকে ভালোবাসা উচিত? না কি উচিত নয়?”


যাইহোক, আমি উপন্যাসটির গল্পে চলে যাচ্ছি এবং দূর্ভাগ্যবশত উপন্যাসের চরিত্রের বানানগুলো বাংলায় ঠিক ক্যামন হবে সেটা আমার জানা নেই। তাই আমি ইংরেজিতেই স্থানের নাম, চরিত্রের নাম ইত্যাদি বাধ্য হয়ে লিখছি।


গল্প শুরু হয় কেরালা রাজ্যের একটি শহর ‘Ayemenem’ থেকে। ১৯৬৯ সালের একটি জমিদার পরিবারের দুই ভাই-বোন সম্পর্কে বলা হয়। এখানে ভাই হলো ‘Estha’ এবং বোন হলো ‘Rahel’। এই দুই ভাই-বোনের বয়েস ৭ বছর কারণ এরা জমজ এবং এরা এদের মায়ের কাছে থাকে; উপন্যাসে যার নাম ‘Ammu’ বলে পাবেন।


এখন ‘Ammu’ এর মায়ের নাম হচ্ছে ‘Mammachi’, ভাইয়ের নাম ‘Chacko’ এবং এদের সাথে একজন আন্টিও রয়েছেন; যার নাম হলো, ‘Baby Kochamma’। মোটামুটি এই হলো জমিদার পরিবারের সদস্যরা। উল্লেখ্য, এটি একটি খ্রিষ্টান পরিবার।


এই পরিবারের কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, মানে ইতিহাস আছে। তো, ‘Mammachi’ এর স্বামীর নাম হচ্ছে ‘Pappachi’। কিন্তু স্বামী হিসেবে তিনি ‘Mammachi’ এর প্রতি খুব একটা যত্মশীল ছিলেন না। তিনি বিভিন্ন ইনসেক্ট বিষয়ক গবেষণা করতেন। প্রায় প্রায় তিনি তার স্ত্রী ‘Mammachi’ কে মারধরও করতেন।


এই দম্পতি মানে ‘Pappachi’ এবং ‘Mammachi’ দম্পতির দুই সন্তান হলো, ‘Ammu’ ও ‘Chacko’। ‘Chacko’ পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে চলে যায় অক্সফোর্ডে পড়ার জন্য। ওখানে একজন ইংলিশ ম্যাম মিলে যায় ‘Margaret’ নামে। এবং তাকে ‘Chacko’ বিয়ে করে নেন।


এখন ‘Chacko’ ও ‘Margaret’ দম্পতির একটি মেয়ে হয়; ওর নাম ‘Sophie’। কিন্তু পরবর্তীতে এই সম্পর্ক টেকে না। তাই ‘Margaret’ পুনরায় বিয়ে করেন ‘Joe’ নামের একজনকে। এরপর ‘Chacko’ পুনরায় ফিরে আসেন ‘Ayemenem’ শহরে এবং পরিবারের ব্যবসা দেখভাল করতে শুরু করেন।


অন্যদিকে ‘Ammu’, মানে ‘Chacko’ এর বোন - ‘Baba’ নামে এক নতুন পুরুষ কে বিয়ে করে নেন। এবং এদেরই জমজ সন্তান হচ্ছে, ‘Estha’ ও ‘Rahel’। এখন এই ‘Baba’ লোকটাও খুব একটা ভালো নন। তিনি মদ খান এবং একই সাথে ‘Abusive’ প্রকৃতির।


একদিন এই ‘Baba’ লোকটা তার স্ত্রী ‘Ammu’ কে তার মালিকের সাথে বেডে যেতে বলেন। এতে ‘Ammu’ বেশ নারাজ হোন এবং স্বামীর কথা শোনেন না। এতে করে রাগে ‘Baba’ তার স্ত্রী ‘Ammu’ কে বেশ মারধর করেন। তাই ‘Ammu’ পুনরায় ‘Ayemenem’ শহরে ফিরে আসেন।


খেয়াল করে দেখুন, এখন ‘Ayemenem’ শহরে কারা কারা আছেন? এক নজরে,

১. Estha

২. Rahel

৩. Chacko

৪. Ammu


‘Ayemenem’ শহরে এটাই এখন এদের পরিবার।


১৯৬৯ সাল, তখন কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় ছিলো। আর কমিউনিস্ট পার্টির যে ‘Ideology’ সেটা কিন্তু এখানে বেশ ফুটে ওঠে। কারণ এদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সমাজে দারিদ্রতা দূর করা। কিন্তু এই জমিদার পরিবার; যারা কিনা দারিদ্রতা কি জিনিস সেটা জানে না তারা একরকম শঙ্কায় পড়ে যায় নিজেদের নিয়ে।


এই জমিদার পরিবারের একটি ফ্যাক্টরি আছে; যার নাম ‘Pickle Factory (আচারের কারখানা)’। এখানে একজন হিন্দু নিচু বর্ণের লোক কাজ করেন; যার নাম ‘Velutha’। একদিকে যেমন কমিউনিস্ট পার্টি এই কারখানা ভেঙ্গে ফেলার পক্ষে; অন্যদিকে ‘Chacko’ এর স্ত্রী’র স্বামী ‘Joe’ মারা যান।


তাই ‘Chacko’ তার স্ত্রী ‘Margaret’ এবং মেয়ে ‘Sophie’ কে ‘Ayemenem’ শহরে ফিরিয়ে আনেন। উল্লেখ্য, ‘Chacko’ যখন তিনি তার স্ত্রী এবং মেয়ে কে নিতে এয়ারপোর্টে যান তখন কমিউনিস্ট পার্টির একটি মার্চ দেখতে পান।


এরমধ্যে ‘Estha’ থিয়েটারে এক ওরেঞ্জ ড্রিংক্স-ওয়ালা কে দেখে ভয় পেয়ে যায়। পরবর্তীতে ‘Rahel’ ও ‘Estha’ দু’জনে নৌকায় চড়ে হিস্ট্রি হাউজে রওনা দেয়। গল্পের এই জায়গায় এসে আমরা দেখতে পাই যে, ‘Ammu’ আস্তে আস্তে তাদের ফ্যাকরীর একজন কর্মকর্তা ‘Velutha’ এর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এক রাতে ‘Velutha’ এর কাছে তিনি যান, এবং তারা সেক্সও করেন। এমনকি পরবর্তী দুই সপ্তাহ তারা একে অপরের সাথে রাতে দেখা করেন।


এখন ‘Velutha’ এর বাবা ‘Mammachi’ (‘Ammu’ এর বাবা) এর কাছে যান এবং এই সম্পর্ক সম্বন্ধে জানান। পাশপাশি এদের বিয়ে দেবার প্রস্তাব রাখেন। এতে করে ‘Mammachi’ এবং ‘Baby Kochamma’ বেশ নারাজ হোন। এবং একজন নিচু বর্ণের লোকের সাথে তাদের মেয়েকে বিয়ে দেবেন না বলে জানান। ‘Ammu’ এতে বেশ আঘাত পান এবং বন্ধ ঘরে কান্নাও করেন।


‘Rahel’ ও ‘Estha’ নৌকায় চড়ে হিস্ট্রি হাউজে যায়, এবং সাথে করে ‘Sophie’ কে নিয়ে যায়। কিন্তু মাঝপথে নৌকা উল্টে গিয়ে ‘Sophie’ মারা যায়। কোনোভাবে ‘Rahel’ ও ‘Estha’ এই যাত্রায় বেঁচে যায়।


‘Rahel’ ও ‘Estha’ হিস্ট্রি হাউজে অবস্থান কালে সেখানে ‘Velutha’ -ও ছিলো। এই অংশে এসে ‘Baby Kochamma’ একটি ষড়যন্ত্র করেন। তিনি ‘Inspector Thomas Mathew’ -এর কাছে যান এবং বলেন, ‘Velutha’ আমাদের মেয়ে ‘Ammu’ কে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছে এবং ‘Rahel’ ও ‘Estha’ কে কিডন্যাপ করেছে।


এরপর ‘Inspector Thomas Mathew’ মোট ৬ জন পুলিশকে ব্যাপারটা তদন্ত করতে পাঠান। তারা ‘Velutha’ কে ধরে আনেন এবং ‘Rahel’ ও ‘Estha’ কেও খুঁজে পান। এরপর ‘Velutha’ কে প্রচুর মারধর করা হয়। কিন্তু ‘Inspector Thomas Mathew’ এই ষড়যন্ত্র টের পান।


‘Baby Kochamma’ এরকম ভুল ও মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার জন্য ইন্সপেক্টর বেশ রেগে যান। তাই এই ব্যাপারটা রফাদফা করতে ‘Baby Kochamma’ মিথ্যা বলতে বলেন ‘Estha’ কে, যে, ‘Sophie’ কে হত্যা করেছে ‘Velutha’ এবং এটা তুমি তোমার মা (Ammu) কে বাঁচানোর জন্যে এটা বলবে। কিন্তু ‘Sophie’ মারা গিয়েছিল স্রেফ একটি অ্যাক্সিডেন্টে মানে নৌকা উল্টে গিয়ে।


এদিকে ‘Velutha’ জেলে প্রচুর মার খেয়ে একসময় মারা যায়। ‘Ammu’ যদিও ‘Velutha’ কে বাঁচানোর চেষ্টা করে কিন্তু পেরে ওঠে না শেষ অবধি। ‘Baby Kochamma’ এখন ‘Chacko’ কে বলে, তোমার বোন একজন হত্যাকারী কে বাঁচানোর চেষ্টা করছে, যে তোমার মেয়ে কে খুন করেছে, তাই ও কে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হোক।


‘Chacko’ তাই নিজের বোন ‘Ammu’ কে ঘর থেকে বের করে দেন। আর উপায় না পেয়ে ‘Estha’ ওর বাবার কাছে চলে যায়। অন্যদিকে ‘Rahel’ থেকে যায় তার মায়ের কাছে। এখন এই দুই ভাই-বোন ২৩ সালের জন্যে একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যায়।


এরমধ্যে ‘Rahel’ কে বেশ কিছু স্কুল পরিবর্তন করতে হয়। ১১ বছর বয়সে সে তার মা কে-ও হারায়। শুধু তাই নয়, এরমধ্যে ‘Rahel’ একজন অ্যামেরিকান ছেলেকে বিয়ে করে নেয়; যে কিনা অ্যামেরিকার বস্টন শহরে থাকে। কিন্তু এই বিয়েও টিকে না। এদের ডিভোর্স হয়ে যায়।


১৯৯৩ সালে এই দুই জমজ ভাইবোন পুনরায় একত্রিত হয় ‘Ayemenem’ শহরে। এরমধ্যে অনেক কিছু ঘটে যায়। বিশেষ করে ‘Mammachi’ মারা যান। ‘Baby Kochamma’ এখন সারাদিন তার কুক এর সাথে গল্প করেন এবং টিভি দ্যাখেন। আর হিস্ট্রি হাউজ এখন ‘ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট’ -এ পরিণত হয়েছে।


শেষের দিকে ‘Rahel’ ও ‘Estha’ এই দুই ভাই-বোনের যখন দেখা হয় তখন তারা সেক্সেও লিপ্ত হয়। আর এখানেই গল্পের সমাপ্তি ঘটে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow