মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন

এক ছেলের মোবাইল ফোন নষ্ট হওয়ার পর আত্মহত্যার ঘটনা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের বিরূপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা।

Mar 30, 2024 - 09:30
Mar 30, 2024 - 00:29
 0  19
মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন
মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন

কয়েক দিন আগে একটি ছেলে আত্মহত্যা করেছিল। নিউপেপারে প্রকাশিত খবর। প্রকৃতপক্ষে তার ফোন জলে পড়ে গিয়ে খারাপ হয়ে গিয়েছিল, আর তার পিতাজী তার দায়িত্বশীলতার দোহাইয়ে বকাবকি করে নতুন ফোন কিনে দিতে অস্বীকার করেন।


তার পরিবর্তে তাকে পরামর্শ দেন যতো ইচ্ছে ততো বন্ধু বাড়াতে ও তাদের সঙ্গে সংযোগ রাখতে এবং গল্প,
খেলাধূলো করতে।


তিনি ছেলেকে বললেন
, “তুমি সব সময় মোবাইল নিয়ে থাকো আর কিছু বিচার, বিবেচনা না করে স্ক্রল না করে নিজের জন্য কিছু করবার, কিছু নতুন চিন্তা ভাবনা কেন করো না! নিজের জন্য সময় বের করো, বই পড়ো, খানিকটা দৌড়ে এসো, ইচ্ছে হলে জিম যাও, ছবি আঁকো, গান গাও, সাঁতার কাটতে সুইমিং ক্লাবে ভর্তি হতে পারো। তুমি সময়ের বাহানাবাজী না করে এসব তোমার মন মাফিক তুমি অনায়াসে করতে পারো। এই সব তোমার আত্মা কে তৃপ্ত করবে। তোমার বন্ধু দের,  পরিচিতদের চিঠি পত্র লেখো, তোমার কত আত্মীয়জন আছে, তুমি কি ঠিক করে জানো! তাদের জানো, তাদের কাছে যাও, পরিচিত হও।”


এই ব্যপারগুলো শুধু যে তোমায় তরোতাজায় ভরে দেবে, তাই নয়, তোমায় ডিজিটল সঞ্চার থেকে এক পা-ও হলেও দুরে রাখবে।
এতোগুলো এক নাগাড়ে পিতার ভাষণ শোনবার পর সেই ছেলেটি বললো- তার আসল ও সত্যিকার সম্বন্ধ  তার ফোন এর সঙ্গে, হাতে বিনা ফোন -এ তার যেন মনে হয় দম বন্ধ হয়ে নিঃশ্বাস আটকে আছে।


এই একই অবস্থা অধিকাংশ শহর বেশীর ভাগ কেন প্রতিটি ঘরে ঘরে!
যদি বিজ্ঞান কে মান্য করা যায়, তাহলে কোনো এক সময়ে স্রেফ ১৫০ টি ব্যক্তিগত সম্বন্ধ কে সামলানো যায় এক সময়ে। তাহলে সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া কি ভাবে ফিট হয়?


এই নেটওয়ার্কে তো আমাদের হাজারের বেশী কনেকশন আছে! এই রকম বলা হয় বা মানা হয় যে আমাদের
ব্রেন বা দিমাগ পরিচিতর সঙ্গে অনলাইন চ্যাট আর সামনা সামনি  কথাবার্তায় তফাৎকরতে পারে।


কিন্তু তার জন্যও কিছু সংজ্ঞা
মূলক শক্তির প্রয়োজন। এর প্রকৃত পক্ষে নিষ্কর্ষ বেরুল যে সামনে উপস্থিত জনের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রগাঢ় করার জায়গায় কিছু পরিমাণ মিত্রতার শক্তি বা এনার্জি এই অনলাইন সম্বন্ধে  খরচা হয়ে যায়।


অনলাইন আমাদের সময় লুটে নেয় আর আমাদের আসল জীবনে ব্যয় করার কিছু মাত্র মুহুর্তই রয়ে যায়।
সোশ্যাল মিডিয়া নিশ্চিত রুপে আমদের জুড়ে থাকার বোধ তো করায় কিন্তু কোন অনুমাণ কি লাগানো যায় যে কতটা?


সেই জায়গায় আমদের আসল জীবনের দুনিয়ার সম্বন্ধে তে ওয়েল উয়িং এ ক
টা ভালো প্রভাব ফেলে। সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার যদি সমস্ত লাভের খাতা দেখি, তবুও নজরে পড়ে আমাদের মেন্টাল হেলথ -এর ওপর অশুভ প্রভাব ফেলে- এটাই সোশ্যাল মিডিয়ার কালো ছায়া বলা যায়।


আলোচনার এতো খানি এগিয়ে এসে বলা যায় যে হতে পারে ছেলেটি সো
শ্যাল মিডিয়ার থেকে আলাদা হবার কথা ভাবতেও পারে নি। অথচ পুরোপুরি আলাদা হতে তাকে বলা হয় নি কিন্তু। তার পিতা সোশ্যাল মিডিয়ার সংখ্যা কে সীমিত রেখায় অনেকবার কথাও বলেছিলেন।


কিন্তু ছেলেটি
ভার্চুয়্যাল দুনিয়া জুড়ে থাকবার সঙ্গে ঙ্গে তার থেকে দুরে থাকবার কথা অস্বীকার করেছিলো। এটাও হতে পারে ছেলেটি বুঝতেই পারেনি সোশ্যাল মিডিয়া কন্ট্রোল কিভাবে করা যায়, যা না কি অনেক বয়স্ক, অভিজ্ঞজনও পারেন না!


আমরা এক সময় এক এমন দুনিয়ায় থাকতাম যখন
বুড়ো আঙুলের ছাপ এখনকার, আজকের দুনিয়ার লাইকস তৈরি হয়েছে। সত্যিই কি আমাদের নিজেদের আঙুলের ওপর এতো জ্ঞান রাখবার প্রয়োজন আছে?


যাকে বলে বিভিন্ন বিকল্পের নামে এতো
বমবারী কে হজম করার মানসিক রুপে ক্লান্ত করে দেয় না? এই জন্য কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয় যে বাচ্চারা এতো। নিঝুম হয়ে থাকা অবস্থায়, এতো ক্লান্ত চেহারায় নজরে আসে!


এটা এই জন্য য়ে তারা সো
শ্যাল মিডিয়ায় বেশীর ভাগ অন্যদের জীবন নিয়ে চিন্তা করে, ভাবে, সময় তাতেই কেটে যায়, সেই অন্যদের তারা জানুক, না জানুক!


আমেরিকায় ২০১৮ তে এক সা
র্ভেতে পাওয়া গিয়েছে, ৪২% ফেসবুক ব্যবহরার কারী  নিজের পেজচেক করতে কম করেও কয়েক সপ্তাহ ব্রেক নিয়েছে ও এক- তৃতীয়াংশ লোক এপ ডিলীট করে দেয়। সত্যি, কিছু প্রকৃত কারণ তো আছে যার ফলে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়তে পারিনা বা ছাড়তে চাই না।


এটাও এক চিন্তা করার বিষয় আমরা সো
শ্যাল মিডিয়া কেন ছাড়তে চাই না বা ছাড়তে পারি না! কিন্তু এখনো আমরা এক কদম ফিরে দেখতে পারি তথা সময় সীমা কম করবার জন্য ব্যক্তিগত লক্ষ নির্ধারণ করতে পারি।


ভার্চুয়্যাল
বেশ ধরে জুড়ে থাকা ও ব্যক্তিগত রুপে সবার সঙ্গে আলাদা আমাদের লোকসানের স্থিতিই আনতে পারে। এই জন্য এক ছন্দবদ্য লয় নির্ধারণ করুন আর ধীর গতিময়তায় সোশ্যাল মিডিয়া আর আসল জীবনের সমন্বয় করে জীবনের আনন্দ নিতে থাকুন।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত অ্যাডভোকেট, লেখিকা, বঙ্গীয় সাহিত্যের সদস্য, কীবোর্ড প্লেয়ার, অ্যামওয়ে ব্যবসার মালিক। আমার লেখা সর্বশেষ বইয়ের নাম, ‘কেমেষ্ট্রি প্র্যাকটিক্যাল ও টি.ভি শো’ এবং ‘লেনিন সাহেবের সাথে দেখা’ বইটি Flipkart -এ নেবার জন্য ক্লিক করুন: https://www.flipkart.com/lenin-saheber-sathe-dekha/p/itmc9bfae4c39392