সমতার স্বপ্ন: বাস্তবতার আয়নায়

এই আর্টিকেলটিতে ‘সমতা’ ধারণার জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে। নৈতিক, দার্শনিক, আইনি, সুযোগ, পরিমাণ, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমতার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। লেখক প্রশ্ন তুলেছেন: সকল মানুষ কি সত্যিই সমান? বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। লেখক মনে করেন, সমতার ধারণা আপেক্ষিক এবং বিতর্কিত। সমালোচকরা যুক্তি দেন, সকলকে সমান বিবেচনা করা সম্ভব নয়। মেধা, কর্ম, অর্জনের ভিত্তিতে পুরষ্কার দেওয়া উচিত। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও সমতার ধারণা জটিল। ঈশ্বর সকলকে সমান চোখে দেখলেও, সমাজে বৈষম্য বিদ্যমান। লেখক পাঠকদের এই প্রশ্নটি নিয়ে চিন্তা করার জন্য উৎসাহিত করছেন: আপনি কি মনে করেন সকল মানুষ সমান?

Apr 16, 2024 - 10:00
Apr 16, 2024 - 00:46
 0  24
সমতার স্বপ্ন: বাস্তবতার আয়নায়
সমতা, ন্যায়বিচার, সামাজিক নীতি, মানবাধিকার, নীতিশাস্ত্র, দর্শন, সমাজতত্ত্ব, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বৈষম্য, বর্ণবাদ, লিঙ্গবৈষম্য, দারিদ্র্য, শোষণ, সুযোগের অসমতা, আইনের শাসন, সামাজিক সংহতি, টেকসই উন্নয়ন, বিভিন্ন ধরণের সমতা, সমতার ইতিহাস, বিশ্বে সমতার বর্তমান অবস্থা, সমতা অর্জনের জন্য নীতি ও কৌশল, ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সমতার গুরুত্ব, সমতা সম্পর্কে বিখ্যাত উক্তি ও বই, সমতা সংক্রান্ত সংস্থা ও আন্দোলন, সমতা অর্জনে চ্যালেঞ্জ ও সমাধান, ভবিষ্যতে সমতার সম্ভাব্য দিক

কিছু প্রশ্ন:


১. আমাদের সবার জীবনের মূল্য কি সমান?

২. আমাদের সবাইকে সবার কি সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

৩. সবার কি সমান পরিমাণ বাঁচার অধিকার আছে?

৪. আমাদের শ্রম এবং তার ফলাফল কি সমান?

৫. আমরা সবাই কি সমান পরিমাণ সুযোগ পাই?


নারী-পুরুষের সমতার কথা আপনার মাথায় হয়তো চলে এসেছে কারণ এসবই তো বাজারে বেশি চলছে। কিন্তু আজ আমি প্রতিটি মানুষের সমতার কথা বলছি। আমি প্রতিটি মানুষকে এক কাতারে ফেলে হিসাব করতে চাইছি। নৈতিক (Moral Equality) দৃষ্টিভঙ্গিতে, আমাদের সবাইকে সমান ভাবে দেখা উচিত। দার্শনিক (Philosophical Equality) দৃষ্টিভঙ্গি তে, ‘Context অনুযায়ী পাল্টায়।আইনের (Legal Equality)’ দৃষ্টিভঙ্গিতে, “আইন সবার জন্য সমান।” গণতান্ত্রিক দেশে আইন সবার জন্য সমান না হলে সে দেশে দূর্বল গণতন্ত্র বিবেচনায় নেওয়া হয়


সুযোগের সাম্যতার (Equality of Opportunity) দৃষ্টিভঙ্গিতে, সফলতা পাওয়ার জন্য আমাদের সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। কিন্তু সত্যিই কি সফলতা পাওয়ার জন্য আমরা সমান সুযোগ পাই?সমতা বনাম পরিমাণের (Equality Vs Equity) দৃষ্টিভঙ্গিতে, কিছু মানুষ একটু বেশি সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। কিছু মানুষ অন্যদের চেয়ে একটু বড়।


যেমন ধরুণ, একটি দেয়ালের একপাশে তিনজন মানুষ আছে, অন্যপাশে আছে এক বাগান। এখন ঐ বাগান দেখতে হলে সবাইকে যদি এক উচ্চতার চেয়ার দেওয়া হয় তাহলে হতে পারে ৩ জনের মধ্যে শুধু একজন বাগানটি দেখতে পাবেন কারণ তার উচ্চতা বেশি। সুতরাং উচ্চতা বুঝে আপনাকে তিন ধরণের চেয়ার বা বক্স দিতে হবে। তাই নয় কি?


কিছু মানুষ সরকারী হাসপাতালে সেবা নেন আবার কিছু মানুষ প্রাইভেট হাসপাতালে সেবা নেন। কিছু মানুষ সরকারী স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন আবার কিছু মানুষ প্রাইভেট স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। সরকারী সেবার মান এবং প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সেবার মান কি একই রকম? যদি একই রকম না হয় তাহলে আমরা সবাইকে সমান অধিকার দিতে পারছি?


সাংস্কৃতিক (Cultural Relativism)’ দৃষ্টিভঙ্গিতে, কোন সমাজ বা দেশের সংস্কৃতি অন্য কোন সমাজ বা দেশের সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন হতে পারে এবং এই যে সমতা শব্দ সেটাও সংস্কৃতি থেকে সংস্কৃতি ভিন্ন হতে বাধ্য। সুতরাং আপনি যখন সমতাবলছেন তখনই বিষয়টি আপেক্ষিক হয়ে যাচ্ছে


আইনের সমতা (Legal Equality)’ দৃষ্টিভঙ্গিতে, আইন তো সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কিন্তু সবাই কি একাধিক আইনজীবী নিজের পকেটে রাখতে পারেন? টাকা না থাকায় কিছু মানুষ আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য ব্লাস্ট, জাস, আইনজীবী সমিতি, আইন ক্লিনিক, বেসরকারি আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান’ -এ কেন দৌড়াদৌড়ি করেন? এতে করে,Justice becomes nullifiedহয় না? ন্যায় এর সংজ্ঞা পরিবর্তন হয় না? সাদা কে কালো আর কালো কে সাদা করার এই লড়াইয়ে কেউ কেউ কেন সবসময় কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকেন? বা আমাদের কেন এরকম মনে হয় বলুন তো?


কিছু সমালোচক বলছেন, সূক্ষ্ম চিন্তায় সবাই সমান নন। সবাইকে সমান বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব নয়। ব্যক্তি তার অর্জন বা ফলাফল বা পুরষ্কার পান তার কর্মের জন্য। তারা আবার এটিকে নাম দিয়েছেন মেধাতন্ত্র (Meritocracy)’সেবা একজন মানুষের তার সমস্যার জটিলতার উপর নির্ভর করবে, যে, তিনি সরকারী হাসপাতালে যাবেন নাকি প্রাইভেট হাসপাতালে। ঠিক তেমন করে, একজন ছাত্র/ছাত্রী ওটুকুই বই পাওয়ার যোগ্য বা তথ্য পাওয়ার যোগ্য যেটুকুতে সে আগ্রহী বা সামর্থ্য রাখে। প্রতিটি মানুষের মানসিক/শারীরিক/সামাজিক ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় টেইলরিং করে তাকে প্রাপ্য ‘সুযোগ (Opportunity)’ দেওয়া হবে


এমনকি শান্তির ধর্ম ইসলামে সমতা এর কথা বলে কিছু দ্বান্দ্বিকতার উপমা দিয়েছে। আচ্ছা, বলুন দেখি, ঈমাম সাহেব এবং মুসল্লীদের একজন কি সমান? একজন মুফতি আর একজন সাধারণ মানুষ কি সমান? সুন্নি মুসলমানরা সমান মনে করেন, শিয়া মুসলিমরা সমান মনে করেন না। আবার সামাজিক প্রেক্ষাপটে সুন্নি এবং শিয়া দুই ভাগই সমান মনে করেন না। কিন্তু আল্লাহ্ সবাইকে সমান চোখে দেখেন। সবাইকে নিয়ে সমান ভাবেন। ফের, বাঙালীরা (হিন্দু ও মুসলিম) নারী ও পুরুষ কে অনেক আলাদা এবং কোনোভাবেই সমান মনে করেন না। কি অদ্ভুত তাই না?


বেঁচে থাকার শর্তে, একজন খুনী, সন্ত্রাস, ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ এদের কি কোনরুপ বাঁচার অধিকার আছে? যদি নাই থাকে, তাহলে সেটাও বা কে ঠিক করবে? কোন আদালত? যদি বড় আইনজীবী তার আত্মপক্ষ সমর্থন করেন? যদি Social Contract Theory কিছু অন্যায়কে ন্যায় বলে? যদি তিনি পুলিশের হাতে ধরা না-ই পড়েন তো? তারচেয়েও বড় কথা, আমার সমতার বিষয়টি না হয় পরিষ্কার হতে পারলাম না কিন্তু আমার বাঁচা বা মরার অধিকারের বিষয়টি কে নির্ধারণ করবে?

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow