নূহ (আঃ) ও ইব্রাহিম (আঃ) এর বংশধর এবং ইয়াজুজ মাজুজের রহস্যময় ইতিহাস

এই আর্টিকেলে নূহ (আঃ) ও ইব্রাহিম (আঃ) এর বংশধরদের ইতিহাস এবং ইয়াজুজ মাজুজের রহস্যময় অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রাচীন কাহিনী এবং কোরআনের বর্ণনা অনুসারে এই বিষয়গুলোর গভীরে যাওয়া হয়েছে।

Apr 21, 2024 - 14:00
Apr 21, 2024 - 00:51
 0  6
নূহ (আঃ) ও ইব্রাহিম (আঃ) এর বংশধর এবং ইয়াজুজ মাজুজের রহস্যময় ইতিহাস
নূহ (আঃ) ও ইব্রাহিম (আঃ) এর বংশধর এবং ইয়াজুজ মাজুজের রহস্যময় ইতিহাস | প্রতীকী ছবি

Disclaimer: This disclaimer informs readers that the content is based on historical and religious texts and interpretations, and neither the author nor the publisher claims ultimate authority on the subjects discussed. It also encourages readers to conduct their own research and form their own understanding of the information presented.



আল্লাহ তাআলা বলেন
,

 وَ لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا وَّ اِبۡرٰهِیۡمَ وَ جَعَلۡنَا فِیۡ ذُرِّیَّتِهِمَا النُّبُوَّۃَ وَ الۡکِتٰبَ فَمِنۡهُمۡ مُّهۡتَدٍ ۚ وَ کَثِیۡرٌ مِّنۡهُمۡ فٰسِقُوۡنَ


অর্থ: আমি নূহ ও ইব্রাহিমকে রসুল রূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ হয়েছে পাপাচারি। [সূরা হাদীদ, আয়াত-২৬]


নূহ (আঃ) এর ৪টা ছেলের ইতিহাস আমরা তাফসীরে পাই,

১. সাম

২. হাম

৩. ইয়াফেস

৪. কেনান


নূহ (আঃ) এর পিতার নাম হচ্ছে নামাক, মাতার নাম সামখা বিনতে আনুস। নূহ (আঃ) এর পিতা মাতা মুসলমান ছিলেন এটা তার একটা সৌভাগ্য। আর ইব্রাহীম (আঃ) এর পিতা মাতা মুসলাম ছিলেননা। কিন্তু পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) এর মাতা ওমাইরা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এই রকম কথা তাফসীরে লিখা আছে। তো নূহ (আঃ) এর ৪ সন্তান সাম, হাম, ইয়াফেস, কেনান। এর মধ্যে কেনান ডুবে মারা গেছে এটা কোরআনে বর্ণনা করা আছে।


নূহ (আঃ) যখন নৌকায় উঠেছে কেনান তখন একটা পাহাড়ে দাঁড়ানো ছিল। নূহ (আঃ) বললেন তুমি আমার নৌকায় আহরণ কর। তখন কেনান বললো, না আমি পাহাড়ে আশ্রয় নেব, পাহাড় আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বললেন আজকে আল্লাহ ছাড়া কেউ রক্ষাকারী নেই। কেনান নৌকায় উঠলোনা পানিতে ডুবে মারা গেল। এইজন্য কেনানের কোন বংশধর নেই।


সাম হলো নূহ (আঃ) এর বড় পুত্র এর বংশধর হল সেমেটিক জাতি। এই সেমেটিক জাতি হলো পৃথিবীতে সাদা মানুষ। আমরা মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান সবাই সেমেটিক জাতি। আর নূহ (আঃ) এর পুত্র হামের বংশধর পৃথিবীতে কালো মানুষ।


ছুদ শব্দের অর্থ কালো, এর থেকে সুদান ঐ দেশের লোকেরা কালো। এই কালো মানুষ হওয়ার যে কারণটা আমরা তাফসীরে পাই সেটা হল, নূহ (আঃ) নৌকার আরোহীদের বলেছিলেন তোমরা কেউ স্ত্রী সহবাস করবে না। কিন্তু নূহ (আঃ) এর ছেলে হাম স্ত্রী সহবাস করেছিল। যার ফলে তার বংশধর কালো হয়ে গেছে। আর নূহ (আঃ) এর ছেলে ইয়াফেসের বংশধরকে বলা হয় ইয়াজুজ মাজুজ।


এ বিষয়গুলো আমাদের কাছে অনেকটা অস্পষ্ট। ইয়াজুজ মাজুজের কথা পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করা আছে। জুলকারনাইন যখন পৃথিবীর উত্তর অঞ্চলের সফরে গেছেন, তখন সেখানকার লোকেরা অভিযোগ করেছে,

 قَالُوۡا یٰذَاالۡقَرۡنَیۡنِ اِنَّ یَاۡجُوۡجَ وَ مَاۡجُوۡجَ مُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ فَهَلۡ نَجۡعَلُ لَکَ خَرۡجًا عَلٰۤی اَنۡ تَجۡعَلَ بَیۡنَنَا وَ بَیۡنَهُمۡ


অর্থ: তারা বললঃ হে জুলকারনাইন ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বলেন আমরা আপনার জন্য কি কর ধার্য করবো এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীন নির্মাণ করে দেবেন। [সূরা কাহফ, আয়াত-৯৪]


ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীতে ফ্যাসাদ করে, তারা বলল আমরা আপনাকে চাঁদা তুলে দেব আপনি আমাদের মধ্যে তাদের মধ্যে একটা প্রাচীর তুলে দেন। তখন জুলকারনাইন বললেন, তোমাদের আর্থিক সাহায্য আমার প্রয়োজন নাই।


কিন্তু ম্যানপাওয়ারের দরকার কাজের লোকের দরকার। এরপর জুলকারনাইন সেই দেয়ালটা নির্মাণ করে দিয়েছেন। ইয়াফেসের বংশধরের মধ্যে ২১ টা জাতি ছিল। তার মধ্যে ১টা জাতিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল যাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে বলা হয় তুর্ক বা তুর্কী। আরবীতে তারাকা শব্দের অর্থ ছেড়ে দেওয়া। যুলকারনাইন যাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে, তাদেরকে তুর্কী বলা হয়।


ইয়াফেসের বংশধরদের কে পৃথিবীর উত্তরাঞ্চলে ‘জুলকারনাইন’ এদের দেয়াল বা প্রাচীরে আবদ্ধ করে দেন। এই প্রাচীর সম্পর্কে বলা হয়, এটা তিন মাইল লম্বা দুইটা পাহাড়ের মধ্যে, ২০ হাত উঁচু এবং ৫০ হাত চওড়া। এবং এর দেয়ালটা সম্পূর্ণ লোহা তার উপর গলিত তামা দিয়ে এটা নির্মাণ করা হয়েছে। লোহা এবং তামার কথা পবিত্র কোরআনে বলা আছে।


এখন এই বিষয়টা আমাদের কাছে অস্পষ্ট যে জুলকারনাইনের প্রাচীর’ এখন কোথায়, ইয়াজুজ মাজুজ এরা পৃথিবীর অনেক লোক তারা কোথায়? তার কারণ নূহ (আঃ) একেকটা ছেলের বংশধর এক একটা মহাদেশ জুড়ে।


সামের বংশধর পুরা এশিয়া মহাদেশ সেমিটিক জাতি। আফ্রিকার অধিকাংশ হামের বংশধর। তাহলে ইয়াফেসের  বংশধর তারা সংখ্যায় এত হবে যে একটা মহাদেশ ব্যাপী তাদের জনসংখ্যা হবে। কিন্তু এই লোকগুলার খবর আমরা বলতে পারছি না। কি একটা আশ্চর্য বিষয়।


মানুষ পৃথিবীতে সব কিছু আবিষ্কার করার পরে
, চাঁদে গেল, মঙ্গলে গেল। কিন্তু এই পৃথিবীর মধ্যে ইয়াজুজ মাজুজ কোথায় আছে তা কেউ বের করতে পারছে না। এখন এই বিষয়টা এমন আশ্চর্য বিষয় এটা পবিত্র কোরআনে আছে। পবিত্র কোরআনে না থাকলে এই বিষয়টা আমরা এড়িয়ে যেতাম।


এই প্রাচীর সম্পর্কে পবিত্র কোরআন পাকে যেটা বলা আছে,

فَمَا اسۡطَاعُوۡۤا اَنۡ یَّظۡهَرُوۡهُ وَ مَا اسۡتَطَاعُوۡا لَهٗ نَقۡبًا


অর্থ: অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপর আহরণ করতে পারবে না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হলো না। [সূরা কাহফ, আয়াত-৯৭]


এই প্রাচীরের উপরে তারা চড়তেও পারবে না এবং এটা ছিদ্র করতে পারবে না।


আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قَالَ هٰذَا رَحۡمَۃٌ مِّنۡ رَّبِّیۡ ۚ فَاِذَا جَآءَ وَعۡدُ رَبِّیۡ جَعَلَهٗ دَکَّآءَ ۚ وَ کَانَ وَعۡدُ رَبِّیۡ حَقًّا

 

অর্থ: জুলকারনাইন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবেন এবং আমার পালনকর্তা প্রতিশ্রুতি সত্য [সূরা কাহফ, আয়াত-৯৮]


এরপর যখন কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি আসবে, তখন আল্লাহ তাআলা এটাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিবেন। এবং রবের প্রতিশ্রুতি সত্য। কিয়ামতের পূর্বক্ষণে দেয়ালটাকে ধ্বংস করা হবে। আল্লাহতালা বলছেন যে এটা আল্লাহর হুকুমেই ধ্বংস হয়ে যাবে।


কিন্তু এ দেওয়ালে ওরা আরোহনও করতে পারবেনা ছিদ্র করতে পারবেনা। তাহলে দেয়ালটা পৃথিবীর কোথায় এটা মানুষ বলতে পারছে না। এটা চিন্তা করলে অবাক হতে হয়, এতগুলো মানুষ পৃথিবীতে কোথায় আছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow