রাসূল (সাঃ) এর প্রতি মুনাফিকদের বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র

সূরা তাওবার ৭৪ নম্বর আয়াতে মুনাফিকদের কসম ও অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তারা আল্লাহর নামে কসম করে যে তারা রাসূল (সাঃ) এর বিরুদ্ধে কিছু বলে নি, অথচ তারা কুফরী কথা বলেছে এবং রাসূল (সাঃ) কে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। আল্লাহ তাদেরকে তাওবার আহ্বান জানিয়েছেন, তাওবা না করলে তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে মুনাফিকরা প্রতারণাময় ও বিশ্বাসঘাতক। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও শত্রুতা প্রদর্শন করে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। সে মুনাফিকদের অপরাধ সম্পর্কে অবগত এবং তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। মুসলিমদের উচিত মুনাফিকদের প্রতি সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর পথে স্থির থাকা।

Apr 21, 2024 - 15:00
Apr 21, 2024 - 01:09
 0  3
রাসূল (সাঃ) এর প্রতি মুনাফিকদের বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র
রাসূল (সাঃ) এর প্রতি মুনাফিকদের বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র

মহান আল্লাহ তায়াল বলেন,

یَحۡلِفُوۡنَ بِاللّٰہِ مَا قَالُوۡا ؕ وَلَقَدۡ قَالُوۡا کَلِمَۃَ الۡکُفۡرِ وَکَفَرُوۡا بَعۡدَ اِسۡلَامِہِمۡ وَہَمُّوۡا بِمَا لَمۡ یَنَالُوۡا ۚ وَمَا نَقَمُوۡۤا اِلَّاۤ اَنۡ اَغۡنٰہُمُ اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗ مِنۡ فَضۡلِہٖ ۚ فَاِنۡ یَّتُوۡبُوۡا یَکُ خَیۡرًا لَّہُمۡ ۚ وَاِنۡ یَّتَوَلَّوۡا یُعَذِّبۡہُمُ اللّٰہُ عَذَابًا اَلِیۡمًا ۙ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۚ وَمَا لَہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیۡرٍ


বাংলায় অর্থ: তারা আল্লাহর কসম করে যে, তারা কিছু বলেনি। অথচ তারা কুফরী কথা বলেছে, এবং তারা নিজেদের ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করেছে। এবং তারা এমন কাজ করার ইচ্ছা করেছিল, যাতে তারা সফলতা লাভ করতে পারেনি। আল্লাহ ও তার রাসূল যে তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে বিত্তবান করেছিলেন, তারা তারই বদলা দিয়েছে

এখন তারা তাওবা করলে তা তাদের পক্ষে মঙ্গল হবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাময় শাস্তি দিবেন এবং ভূপৃষ্ঠে তাদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না। (সূরা তাওবা, আয়াত ৭৪)


English: They swear by Allah that they did not say [anything against the Prophet] while they had said the word of disbelief and disbelieved after their [pretense of] Islam and planned that which they were not to attain. And they were not resentful except [for the fact] that Allah and His Messenger had enriched them of His bounty. So if they repent, it is better for them; but if they turn away, Allah will punish them with a painful punishment in this world and the Hereafter. And there will not be for them on earth any protector or helper.


শানে নুযূল: জাল্লাস ইবনে সোয়ায়ের ও নাবতাল ইবনে হারেস দুই মুনাফিকের কথা এখানে উল্লেখিত হয়েছে। এ দুইজন নেতৃস্থানীয় লোক ছিলেন, কিন্তু এরা ছিল মুনাফিক। এরা রাসূল (সাঃ) এর সমালোচনা করত, কুরআনের সমালোচনা করত। তারা বলতো মুহাম্মদ (সাঃ) যা বলে তা যদি সত্য হয়, তাহলে আমরা গাধার চাইতে অধম


“(পবিত্র) কোরআন মোহাম্মদ (সাঃ) এর রচনা করা কোরআন আল্লাহর বাণী নয় - এই ধরনের সমালোচনা করত। এবং তারা বলত মোহাম্মদ (সাঃ) রুম পারস্য জয় করার ইচ্ছা পোষণ করছে অথচ শত্রুর ভয়ে রাত্রে প্রস্রাব পায়খানা করতে যেতেও আমাদের ভয় লাগে। আর মোহাম্মদ (সাঃ) রুম পারস্য জয় করার ইচ্ছা করছে


এভাবে নানা রকম ঠাট্টা বিদ্রুপ/উপহাস তারা করত। তো এগুলো শুনেছেন একজন সাহাবী তার নাম আম্মার ইবনে কায়েস আনসার যুবক। আম্মার ইবমে কায়েস এ কথা শোনার পর বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমরা গাধার চাইতে অধম


মোহাম্মদ (সাঃ) যা বলেছে তা সত্য। তখন তারা উভয়েই ক্ষেপেছে, হযরত আম্মার কে হত্যা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু হত্যা করতে পারে নাই। এরপর সাহাবী হযরত আম্মার ইবনে কায়েস রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে অভিযোগ করেছে। অভিযোগ করার পর, রাসূল (সাঃ) জাল্লাস ইবনে সোয়ায়ের কে ডেকে বললেন, তুমি আমাকে গালি দিয়েছ?


তখন সে বললো না আমি আপনাকে গালি দেইনি। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন তাহলে মসজিদে উঠে শপথ করো। তখন সে মসজিদে উঠে শপথ করে বলল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ! ছাড়া কোন মাবুদ নাই। সেই আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি আমি আল্লাহর রাসূলকে গালি দেই নাই। আম্মার ইবনে কায়েস সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে


তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, তাহলে আম্মার তুমি এবার বলো? হযরত আম্মার মসজিদে উঠে বললেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আল্লাহ! ছাড়া কোন মাবুদ নাই। জাল্লাস ইবনে সোয়ায়ের সে আল্লাহর রাসূলকে গালি দিয়েছে


আমার প্রতি সে মিথ্যা আরোপ করেছে। আমি আরো বলছি, আমার কথা যদি সত্য হয়, আল্লাহ যেনো তার রাসূল (সাঃ) কে এই সত্য সম্পর্কে অবহিত করেন। উপস্থিত সবাই বললেন আল্লাহুম্মা আমীন।


এইটা বলার পর পরই এই আয়াত নাযিল হয়,

 یَحۡلِفُوۡنَ بِاللّٰهِ مَا قَالُوۡا ؕ وَ لَقَدۡ قَالُوۡا کَلِمَۃَ الۡکُفۡرِ وَ کَفَرُوۡا بَعۡدَ اِسۡلَامِهِمۡ وَ هَمُّوۡا بِمَا لَمۡ یَنَالُوۡا ۚ وَ مَا نَقَمُوۡۤا اِلَّاۤ اَنۡ اَغۡنٰهُمُ اللّٰهُ وَ رَسُوۡلُهٗ مِنۡ فَضۡلِهٖ ۚ فَاِنۡ یَّتُوۡبُوۡا یَکُ خَیۡرًا لَّهُمۡ ۚ وَ اِنۡ یَّتَوَلَّوۡا یُعَذِّبۡهُمُ اللّٰهُ عَذَابًا اَلِیۡمًا ۙ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ ۚ وَ مَا لَهُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیۡرٍ ﴿۷۴


অর্থ: তারা আল্লাহর কসম করে যে, তারা কিছু বলেনি। অথচ তারা কুফরী কথা বলেছে, এবং তারা নিজেদের ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করেছে এবং তারা এমন কাজ করার ইচ্ছা করেছিল, যাতে তারা সফলতা লাভ করতে পারেনি। আল্লাহ ও তার রাসূল যে তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে বিত্তবান করেছিলেন, তারা তারই বদলা দিয়েছে।

এখন তারা তাওবা করলে তা তাদের পক্ষে মঙ্গল হবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাময় শাস্তি দিবেন এবং ভূপৃষ্ঠে তাদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না। (সূরা তাওবা, আয়াত ৭৪)


এই আয়াত যখন নাযিল হল, তখন জাল্লাস ইবনে সোয়ায়েস দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি এগুলো সব বলেছি আমার অন্যায় হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি তওবা করছি এই রকম ভুল আর হবে না


এরপর মুনাফিক জাল্লাস ইবনে সোয়ায়ের ইসলাম কবুল করে খাঁটি মুসলমান হয়ে গেছিল, পরবর্তীতে আর কোন খারাপ কাজ করেনি। এখানে দুইটা হত্যার চেষ্টার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।


১. তারা আম্মার ইবনে কায়েস কে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কারন তারা যে রাসূল (সাঃ) কে গালি দিয়েছিল সেটা প্রকাশ পাবেনা।

২. তারা রাসূল (সাঃ) কে হত্যা করতে চেয়েছিল।


তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে রাসূল (সাঃ) কোনো এক সময় বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। রাসূল (সাঃ) এর সাথে মাত্র দুইন সাহাবী ছিলেন


(১) আম্মার ইবনে ইায়াসার (২) হুজাইফা ইয়মানি। এই অবস্থা দেখে ১২ জন মুনাফিক একত্রিত হয়েছে যে আমরা এই গিরিপথে মোহাম্মদ (সাঃ) কে হত্যা করব। তখন আল্লাহ তয়ালা সাথে সাথে জিব্রাইল আমিন কে পাঠিয়ে রাসূল (সাঃ) কে জানিয়ে দিলেন


১২ জন মুনাফেক আপনাকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করছে। আপনি আপনার সাথীদের কেলেন, ওদের শোয়ারের উপরের মারধর শুরু করে দাও ঢাল দ্বারা। তাখন রাসূল (সাঃ) হুজাইফা ইয়ামানি কে বললেন দেখো তো তোমার পিছনে কারা? ঢাল দ্বারা পিটানো শুরু করে দাও। পিটানি শুরু করাপর  সবাই পালিয়ে গেল। এরপর পরবর্তী মঞ্জিলে যখন রাসূল (সাঃ) বিশ্রাম করেছেন তখন এই ১২ জন মুনাফিকের নামসহ বলে দিয়েছেন

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow