জুমার আযান: রাসূল (সাঃ) এর যুগ থেকে হযরত ওসমান (রাঃ) এর আমল পর্যন্ত

এই নিবন্ধে জুমার দিনের দুটি আযানের ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেন যে রাসূল (সাঃ) এর যুগে জুমার দিনে একটিমাত্র আযান দেওয়া হত। তবে, হযরত ওসমান (রাঃ) এর আমলে মদিনার মসজিদে জুমার দিনে দুটি আযান দেওয়ার প্রথা শুরু হয়।

Apr 22, 2024 - 11:00
Apr 22, 2024 - 00:08
 0  11
জুমার আযান: রাসূল (সাঃ) এর যুগ থেকে হযরত ওসমান (রাঃ) এর আমল পর্যন্ত
জুমার আযান: রাসূল (সাঃ) এর যুগ থেকে হযরত ওসমান (রাঃ) এর আমল পর্যন্ত

আযান যেভাবে শুরু হয়

রাসূল (সাঃ) মদিনায় হিজরত করার পর একজন সাহাবী আযান স্বপ্নে দেখেছেন, দেখে রাসূল (সাঃ) কে বলেছেন রাসূল (সাঃ) অনুমোদন দিয়েছেন এখান থেকে আযান শুরু হয়েছে। আজকে আলোচনা করবো জুমার দিনের দুইটা আযান নিয়ে, জুমার দিনে দুইটা আযান এটা রাসূল (সাঃ) এর যুগে ছিল না।


আল্লাহর রাসূলের জামানায় আযান ছিল একটাই। রাসূল (সাঃ) এর জামানায় যেভাবে আযান দেওয়া হত মোয়াজ্জেম মিনারে উঠে আযান দিবে, ঈমাম সাহেব তখন মেম্বারে বসে থাকবে আযান হওয়ার সাথে সাথে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে খুৎবা দেওয়া শুরু করবে


আল্লাহর রাসূলের জামানায় এই নিয়ম চালু ছিল। আল্লাহর রাসূলের সময় এই নিয়ম পার হয়েছে, হযরত আবু বকর (রাঃ) সময় এই নিয়ম পার হয়েছে, ওমর ফারুকের জামানায়ও এই নিয়ম পার হয়েছে কিন্ত ওসমান (রাঃ) এর সময় আযান দুটো হয়েছে।


হযরত ওসমান (রাঃ) এর বাড়ি মদিনার জাওহারাত এলাকায়। তো জুমার দিনে মদিনার মসজিদে যখন আজান হত
, তখন ওনার বাড়ির ছাদেও উনি একটা আজান দিয়ে নিতেন। লোক সংখ্যা বেড়েছে একা আযান সব জায়গায় পৌঁছাতে না। এ কারণে ওনার বাড়ির ছাদে আযান দিয়ে নিতেন।


তখন তো আর মাইক ছিল না মুখে আজান দিত। এরপর কোনো একদিন হযরত ওসমান (রাঃ) মাররুত জাহরানে বিশেষ কোনো কাজে গেছেন, এবং সেই দিনটা ছিল জুমার দিন। এই মাররুত জাহরান এটা একটা বিখ্যাত ঐতিহাসিক জায়গা মক্কা থেকে ১৬ মাইল উত্তরে।


মক্কা বিজয়ের সময় আল্লাহর রাসূল এখানে রাত্রে যাত্রা বিরতি করেছিলেন। এবং ১০ হাজার সাহাবিদের বলেছিলেন তোমরা পৃথক পৃথক আলো জ্বালাও এবং নিজের রান্না নিজেই কর। তো এই মাররুত জাহরানে হযরত ওসমান (রাঃ) জুমার দিনে উপস্থিত ছিলেন


তখন সাহাবায়ে কেরামরা একটা প্রস্তাব করলেন যে আমরা জুমার খুতবা পুরাটা শুনতে পাচ্ছিনা। তার কারণ আযান দিয়েই খুতবা শুরু হয়ে যায়, তো আজান দেওয়ার পরে আমরা নামাজের জন্য রওনা করি।


আযানের আগে আমাদের কোন প্রস্তুতি থাকে না
, আজান হলে আমরা অজু গোসল করে তাড়াহুড়া করেন নামাজে যাই এর মধ্যে খুদবার এক অংশ পার হয়ে যায়। জুমার খুতবার অনেক গুরুত্ব রয়েছে, আল্লাহতালা দুই রাকাত নামাজ কমিয়ে দিয়ে তার পরিবর্তে খুতবা দিয়েছেন, এই কারণে খুতবা এত গুরুত্বপূর্ণ।


সাহাবিরা বললেন যে আমরা পুরা খুতবা শুনতে পাচ্ছি না
, আযান দেওয়ার সাথে সাথে খুতবা শুরু হয় সেইজন্য পুরা খুতবা শুনতে পাচ্ছি না। কিভাবে পুরা খুতবা শোনা যায় তার একটা ব্যবস্থা করে দেন। এরপর রাসূল (সাঃ) এর সিনিয়র সাহাবি তারা বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করলেন মত বিনিময় করলেন। শেষ পর্যন্ত একটা সিদ্ধান্ত হলো, আমরা আগে একটা আজান দিব


আগের আজানে সব মুসল্লী মসজিদে ঢুকে যাবে তারপর দ্বিতীয় আজান দিয়ে আমরা খুতবা শুরু করব। তাহলে আল্লাহর রাসূলের আযান টা কিন্তু এই দ্বিতীয় আজান। যেহেতু এ আযানের রাসূল (সাঃ) এর জামানায় ছিল, আর প্রথম আযানটা এটা সাহাবীদের। এরপর সাহাবীরা সবাই এই ব্যাপারে একমত হয়ে গেলেন। এইভাবে হযরত ওসমান গনি (রাঃ) এর জামানায় দুইটা আযান চালু হয়

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow