নতুন চাঁদ, হজ্ব ও ওমরা: আল্লাহর নির্দেশাবলী

এই নিবন্ধে আল্লাহর বাণী (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৯ ও ১৯৬) থেকে উদ্ধৃত দুটি অংশের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

Apr 22, 2024 - 12:00
Apr 22, 2024 - 00:17
 0  9
নতুন চাঁদ, হজ্ব ও ওমরা: আল্লাহর নির্দেশাবলী
নতুন চাঁদ, হজ্ব ও ওমরা: আল্লাহর নির্দেশাবলী

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡاَهِلَّۃِ ؕ قُلۡ هِیَ مَوَاقِیۡتُ لِلنَّاسِ وَ الۡحَجِّ ؕ وَ لَیۡسَ الۡبِرُّ بِاَنۡ تَاۡتُوا الۡبُیُوۡتَ مِنۡ ظُهُوۡرِهَا وَ لٰکِنَّ الۡبِرَّ مَنِ اتَّقٰیۚ وَ اۡتُوا الۡبُیُوۡتَ مِنۡ اَبۡوَابِهَا ۪ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ


অর্থ: লোকে তোমাকে নতুন চাঁদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে, বল উহা মানুষ এবং হজ্বের জন্য সময় নির্দেশক। তোমরা পিছন দিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করবে এটা ভালো কাজ নয়, কিন্তু ভালো কাজ হলো যে, তাকওয়া অবলম্বন করে। সুতরাং তোমরা দরজা দিয়ে গৃহে প্রবেশ কর, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হইতে পারো (সূরা বাকারাহ, আয়াত-১৮৯)


ব্যাখ্যা: হে রাসূল (সাঃ) মানুষেরা আপনার কাছে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে, এই চাঁদ ছোট হয়, ছোট হয়ে উদিত হয় আবার আস্তে আস্তে বড় হয়, আবার ছোট হয় এটা কেন হয়, আল্লাহর রাসূলকে প্রশ্ন করলেন মক্কার মুশরিকরা


আল্লাহ বলেন
, হে রাসূল (সাঃ) আপনি বলে দেন, চাঁদ হচ্ছে মানুষের জন্য সময় নির্ধারণের বস্তু, এবং হজ্বের সময় নির্ধারণের বস্তু। এই চাঁদ ছোট থেকে বড় হয়, আবার বড় থেকে ছোট হয়, এভাবে ২৮ দিনে তার উদয়স্থল পরিবর্তন করেন। চন্দ্র মাস যদি ৩০ দিনের হয়, তাহলে দুইদিন চাঁদ অনুপস্থিত থাকে চাঁদ দেখা যায় না


আর চন্দ্র মাস যদি ২৯ দিনের হয়, তাহলে একদিন চাঁদ উপস্থিত থাকে দেখা যায় না। আল্লাহ তায়াল বলেন, চাঁদকে ছোট বড় করা এটা মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ করা এবং হজ্বের সময় জানার জন্য।


চাঁদ যখন ছোট হয়ে ওঠে, নব চাঁদ এটাকে বলে (হেলাল) এরপরে চাঁদ যখন মাঝামাঝি আকারে উপনীত হয়, তখন তাকে বলা হয় (কামাজ) আর যখন ১৪ তারিখে উপনীত হয় তখন তাকে বলা হয় (বদজ) এটা একটা আন্তর্জাতিক ঘড়ি আল্লাহ আকাশে স্থাপন করে দিয়েছেন


আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَ اَتِمُّوا الۡحَجَّ وَ الۡعُمۡرَۃَ لِلّٰهِ ؕ فَاِنۡ اُحۡصِرۡتُمۡ فَمَا اسۡتَیۡسَرَ مِنَ الۡهَدۡیِ ۚ وَ لَا تَحۡلِقُوۡا رُءُوۡسَکُمۡ حَتّٰی یَبۡلُغَ الۡهَدۡیُ مَحِلَّهٗ ؕ فَمَنۡ کَانَ مِنۡکُمۡ مَّرِیۡضًا اَوۡ بِهٖۤ اَذًی مِّنۡ رَّاۡسِهٖ فَفِدۡیَۃٌ مِّنۡ صِیَامٍ اَوۡ صَدَقَۃٍ اَوۡ نُسُکٍ ۚ فَاِذَاۤ اَمِنۡتُمۡ ٝ فَمَنۡ تَمَتَّعَ بِالۡعُمۡرَۃِ اِلَی الۡحَجِّ فَمَا اسۡتَیۡسَرَ مِنَ الۡهَدۡیِ ۚ فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ ثَلٰثَۃِ اَیَّامٍ فِی الۡحَجِّ وَ سَبۡعَۃٍ اِذَا رَجَعۡتُمۡ ؕ تِلۡکَ عَشَرَۃٌ کَامِلَۃٌ ؕ ذٰلِکَ لِمَنۡ لَّمۡ یَکُنۡ اَهۡلُهٗ حَاضِرِی الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰهَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ


অর্থ: তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্য হজ্ব ও ওমরা পূর্ণ কর, কিন্তু তোমরা যদি বাধা প্রাপ্ত হও তবে সহজলভ্য কুরবানী করিও। যে পর্যন্ত কুরবানির পশু উহার স্থানে না পৌঁছে, তোমরা মস্তক মণ্ডন করিও না। আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি যন্ত্রণাগ্রস্ত হয় তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা কুরবানীর দ্বারা এর ফিদয়া দেবে


যখন তোমার নিরাপদ হইবে যখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্বের প্রাক্কালে ওমরা দ্বারা লাভবান হইতে চায় সে সহজলভ্য কুরবানী করিবে। কিন্তু যে তা পাবেনা তাকে হজ্বে তিন দিন এবং যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন সাতদিন সিয়াম পালন করবে এই হলো পূর্ণ দশ। এই বিধান তার জন্য, যার পরিবার মসজিদুল হারামের অধিবাসী নয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখো যে নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। (সূরা বাকারাহ, আয়াত-১৯৬)


ব্যাখ্যা: হজ্ব এবং ওমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা পুরা কর। হজ্ব হচ্ছে ফরজ, ওমরা হচ্ছে নফল। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, রাস্তায় যদি শত্রুরা বাঁধা দেয় তাহলে তোমরা কুরবানীর করার জন্য যে পশুর সাথে করে এনেছো তার গলায় দোয়াল পরায়া যেখানে বাধাগ্রস্ত হয়েছো সেখানেই ছেড়ে দাও।


ওই পশু একাকি হেঁটে হেঁটে মিনাই যাবে এই প্রশিক্ষণ আল্লাহ ঐ পশুকে দিয়েছে। ওই পশুর গলায় দোয়াল পরা থাকবে, এবং মিনাই না যাওয়া পর্যন্ত কাফের মুশরিকরাও ওই পশুকে মারবে না। কারণ এটা হাজীদের পবিত্র পশু


এখন কোরবানির পর এহেরাম ভাঙতে হবে মাথা কামাইতে হবে, তো আল্লাহ তাআলা বলেন তোমরা অনুমান কর, তোমার পশু কুরবানীর জায়গায় পৌঁছে গেছে তখন তুমি এহেরাম ভঙ্গ করো মাথামন্ডন করো। এটাই বিধান


যদি তোমাদের মধ্যে কারো রোগব্যাধি দেখা দেয়, মাথায় কোন কষ্ট প্রকাশিত হয়, তখন সে মাথা কামাতে পারবে, কিন্তু মাথা কামালে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ টা কি? রোজা অথবা সদকা অথবা কুরবানী থেকে দিতে হবে


রোজার জন্য বিজ্ঞ আলেমরা বলবে, এটার জন্য তিনটা রোজা রাখো, অথবা তিনটা রোজার ফিদিয়া দাও অতবা একটা পশু কুরবানী করো। যেহেতু এহেরাম অবস্থায় মাথামণ্ডানোর বিধান নাই সে কারণে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে


তোমরা যদি নিরাপদে উপনিত হও অর্থাৎ তোমাদের ভয়ভীতি না থাকে, শত্রুরা তোমাদের বাঁধা দেয়নি তখন হজ এবং ওমরা এই দুইটা মিলে যারা তামাত্তু করবে তখন তাদের যে পশু সহজ হবে সেটা কুরবানী করতে হবে

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow