তাকবীরে তাশরিক: ইতিহাস, তাৎপর্য এবং নিয়মাবলী

জ্বিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবীরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। এই নিবন্ধে তাকবীরে তাশরিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

Apr 22, 2024 - 13:00
Apr 22, 2024 - 00:25
 0  14
তাকবীরে তাশরিক: ইতিহাস, তাৎপর্য এবং নিয়মাবলী
তাকবীরে তাশরিক: ইতিহাস, তাৎপর্য এবং নিয়মাবলী

জ্বিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখের আসরের নামাজ পর্যন্ত তাকবীরে তাশরিক পড়তে হয়। প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।



তাকবীরে তাশরিক

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاَللهُ اَكْبَراَللهُ اَكْبَر وَلِلهِ الْحَمْد (অর্থ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।)


তাকবীরে তাশরিকের ইতিহাস

ইব্রাহিম (আঃ) যখন তার সন্তানকে কুরবানী দিয়েছিলেন, তখন তার চক্ষু বন্ধ করা ছিল। ছেলেরও চোখ বাঁধা, পিতারও চোখ বাঁধা। চোখ বেঁধে ইব্রাহিম (আঃ) সন্তানের গলায় যখন ছুরি চালালেন, তখন তিনি বললেন আল্লাহু আকবার। অর্থাৎ, জবাই করার সময় আল্লাহু আকবার বলতে হয়।


ইব্রাহিম (আঃ) যখন ইসমাইল (আঃ) এর গলায় ছুরি চালিয়ে দিলেন, আল্লাহ দেখলেন যে জবাই করার আর কি বাকি, জবাই তো হয়েই গেল। কিন্তু আল্লাহ জবাইটা হতে দিলেন না। পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) তিন বার তার অস্ত্রের ধার পরীক্ষার করে দেখলেন, ইসমাইল (আঃ) বললেন, “আব্বা, আপনি আমাকে উল্টো করে রেখে তারপর ছুরি চালান।” কোনভাবে জবাই হলো না।


আল্লাহতালা এটা বন্ধ করে রেখেছেন মানে জবাই টা বন্ধ করে রেখেছেন। এরপর আল্লাহ তাআলা জিব্রাইল আমিনকে পাঠিয়ে দিলেন একটা দুম্বা নিয়ে ইব্রাহিম (আঃ) এর ছুরির নিচে রেখে দাও। যেহেতু ইব্রাহিম (আঃ) এর চোখ বেঁধে কুরবানী করছে, এই দুম্বা নিয়ে অনেক ইতিহাস আছে, হাবিল যে দুম্বা কুরবানী করেছিল সেই দুম্বাটা সাবির পাহাড়ে রাখা হয়েছিল।


ইব্রাহিম (আঃ) এর কুরবানীর জায়গাটা এখনো চিহ্নিত করা আছে
, এবং তার ছুরির আঘাতে যে পাথর কেটে গিয়েছিল সেই গর্তটাও এখনো বিদ্যমান। ঐখানে আল্লাহর হুকুমে জিবরাঈল আমিন ইব্রাহিম (আঃ) এর ছুরির নিচে একটা পশু রাখলেন।


এখন এই পশুটা জবাই করার জন্য তো আল্লাহু আকবার বলতে হবে, নইলে পশুটাতো হালাল হবে না। তখন জিব্রাইল আমীন বললেন, আল্লাহু আকবার।” এরপর ওই পশুটা জবাই হয়ে যাওয়ার পর ইব্রাহিম (আঃ) চক্ষু খুলে দেখলেন যে তার সন্তান জীবিত আছে কুরবানী কবুল হয়েছে, তখন তিনি শুকরিয়া আদায় করে বললেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।” এরপর ইসমাইল (আঃ) এর চক্ষু খুলে দেওয়ার পরে তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।”


এই হলো তাকবিরে তারিকের ইতিহাস। ইব্রাহিম (আঃ) বলছেন আল্লাহ আকবার, ইসমাইল (আঃ) এর উপরে, জিব্রাইল আমিন দুম্বার উপরে বলেছেন আল্লাহ আকবার। ইব্রাহিম (আঃ) চোখ খোলার পর বলেছেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, ইসমাইল (আঃ) এর চোখ খুলে দেওয়ার পর বলেছেন, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।


এভাবে তাকবীরে তাশরিক সৃষ্টি হয়েছে। এবং এই তাকবীরে তাশরিফ জ্বিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত এই তাকবীরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow