হজ্জে মাসিক অসুস্থতা ও সন্তান প্রসব: রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশাবলী এবং নিয়মকানুন

হজ্জের সময় মাসিক অসুস্থতা বা সন্তান প্রসবকারী মহিলাদের জন্য রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশাবলী ও নিয়মকানুন জানতে চান? এই নিবন্ধে, আমরা হজের সময় মাসিক অসুস্থতা বা সন্তান প্রসবকারী মহিলাদের জন্য রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশাবলী ও নিয়মকানুন সম্পর্কে আলোচনা করব।

Apr 22, 2024 - 14:00
Apr 22, 2024 - 00:35
 0  20
হজ্জে মাসিক অসুস্থতা ও সন্তান প্রসব: রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশাবলী এবং নিয়মকানুন
হজ্জে মাসিক অসুস্থতা ও সন্তান প্রসব: রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশাবলী এবং নিয়মকানুন

সন্তান প্রসবকারিণী এবং ঋতুবর্তী মহিলাদের হজ! অনেক বোনেরা হজে গিয়ে খুব পেরেশান হয়ে যান যদি মাসিক অসুস্থতা এসে যায়। অথবা কারো কারো যদি সন্তানও প্রসব হয়, সদ্য সন্তান প্রসব হয়েছে বা হজের সফরে সন্তান জন্ম হয়েছে। তাদের ব্যাপারে রাসুল সাঃ এর নসিহা।


হযরত আসমা বিনতে উমাইস রাঃ বিশ্ব নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বিদায় হজ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখন তিনি সন্তান সম্ভবা
, জুল হুলাইফাতে এসে হযরতে আসমা সন্তান জন্ম দেন। এরপর তিনি কারো মাধ্যমে রাসুল সাঃ এর কাছে জানতে চেয়েছেন, এখন তার করনীয় কি। নবিজী সাঃ হযরতে আসমা রাঃ কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, তুমি গোসল কর, রক্ত প্রবাহের স্থানে কাপড়ের টুকরা লাগিয়ে শক্ত করে কোমরে বাঁধ এবং এহরাম করো

(সহীহ মুসলিম-১২১৮)


প্রিয় দ্বীনি বোনেরা
, হজের সফরে যদি কারো মাসিকের যে অসুস্থতা যেটা নিয়মিত হয় এটা যদি এসে যায়, তার জন্য এবং সন্তান প্রসব পরবর্তী নেফাজরত মহিলাদের হুকুম একই। হযরতে আয়েশা রাঃ বলেন, “আমরা বিদায় হজে রাসূল সাঃ এর সাথে ছিলাম। মক্কায় পৌঁছার পর আমার মাসিক অসুস্থতা শুরু হয়ে গেল। আমি কাবা ঘর তাওয়াফ করলাম না। এবং সাফা মারওয়া সায়ী করলাম না।  বিষয়টি আমি রাসূল সাঃ এর কাছে জানালে তিনি আমাকে বললেন, তুমি মাথার চুলের বেনি খুলে দিয়ে চুল আঁচড়াও এবং হজের জন্য এহরাম করো।”


হযরতে আয়শা রাঃ
বললেন, “আমি তাই করলাম। হজ শেষ করার পর রাসূল সাঃ আমাকে আব্দুর রহমান বিন আবু বকরের সাথে তানিমে পাঠালেন, আমি তানিম থেকে এসে, এহরাম করে, এসে ওমরা করলাম। এর মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে গেছিলেন। তারপর রাসূল সাঃ তাকে ওমরা করায়ে ফেললেন।সহীহ মুসলিম শরিফের আরেক বর্ণনায় এসেছে, যে আম্মাজান আয়শা রাঃ বললেন আমরা বিশ্বনবীর সাথে সারিফ আসলাম।”


সারিফ আসার পরে আমার মাসিক অসুস্থতা দেখা দিল। এরপর রাসূল সাঃ আমার কাছে আসলেন
, আমি তখন কাঁদছিলাম নবিজী আমাকে প্রশ্ন করলেন তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ সাঃ মনে হয় আমার জন্য খুব ভালো হত যদি এবার আমি হজে না আসতাম


তিনি বললেন তোমার কি হয়েছে
? মনেহয় তোমার মাসিক অসুস্থতা এসে গেছে? তখন আমি বললাম হা। নবী সাঃ আমাকে বললেন, এই মাসিক অসুস্থতা আল্লাহ তায়ালা আদমের মেয়েদের জন্য লিখে দিয়েছে। একজন হাজি যা যা করে তুমি তাই করো, তবে তুমি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত কাবা ঘর তাওয়াফ করবেনা।

(সহীহ মুসলিম-১২১১)


তাহলে এই দুটি বর্ণনা থেকে আমরা যেটা জানলাম সেটা হলো
, সন্তান প্রসবকারিণী মহিলা এবং মাসিক অসুস্থতা এসে গেছে এমন মহিলারাও হজ এবং ওমরা করতে পারবেন। ওমরা ও হজের যাবতীয় বিধান পালন করতে পারবে শুধু তাওয়াফ করবে না। এবং সুস্থ হওয়ার পরে, আলহামদুলিল্লাহ তাওয়াফ করবে।


অনেকে ট্যাবলেট খেয়ে মাসিক অসুস্থতা বন্ধ রেখে হজ করে। সে বিষয়ে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়েখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহেমাহুল্লাহ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল
, যে ট্যাবলেট খেয়ে মেয়েদের মাসিক অসুস্থতা বন্দ রাখা নিয়ে।


তখন তিনি বলেছিলেন যে এতে কোনো সমস্যা নেই। বিন বাজ রাহেমাহুল্লাহ বলেছিলেন মাসিক অসুস্থতা বন্ধের জন্য যদি সাময়িক তারা ট্যাবলেট খায় এতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা এতে কল্যান আছে উপকারিতা আছে। এতে সে অন্যদের সাথে তাওয়াফ করতে পারে।


অতএব যারা আগে থেকে ট্যাবলেট খেয়ে মাসিক অসুস্থতা বন্ধ রেখেছেন হজের সময়টা
, তাদের আর এই সমস্যাগুলো থাকেনা। আর মাসিক অসুস্থতা এসে গেলেও, সন্তান ডেলিভারি হয়ে গেলেও ভয়ের কোনো কারন নাই। ইসলাম সহজ, ইসলাম কঠিন হয়। মাওলানা ফখরুদ্দিন আহমেদ।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow