খন্দকের যুদ্ধ: মদিনা রক্ষার মহাকাব্য (পর্ব - ০২)

এই নিবন্ধে, আমরা খন্দকের যুদ্ধের একটি উত্তেজনাপূর্ণ অংশ তুলে ধরেছি, যেখানে সাহাবী সালমান ফারসি (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর সাথে একটি অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন।

Apr 22, 2024 - 18:00
Apr 22, 2024 - 01:10
 0  17
খন্দকের যুদ্ধ: মদিনা রক্ষার মহাকাব্য (পর্ব - ০২)
খন্দকের যুদ্ধ: মদিনা রক্ষার মহাকাব্য (পর্ব - ০২) | প্রতীকী ছবি

সালমান ফারসি আল্লাহর রাসূলের কাছে গেলেন, আল্লাহ রাসুলের হাত ধরে বললেন যে রাসুল সাঃ এ অবস্থা। তখন আল্লাহর রাসূল সাঃ সালমানের হাত ধরা এ অবস্থায় তারা ওই অংশের কাছে চলে আসে। আসার পরে আল্লাহ রাসুল ওই খন্দকের মধ্যে নামলেন। এবং নয়জন উপরে ছিলেন আল্লাহ রাসুল একাই নামলেন। এবং তিনি সালমান ফারসির কাছ থেকে  কোদাল হাতে নিলেন। তারপরে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আল্লাহর নাম নিয়ে ওই পাথরটায় আঘাত করলেন


এক আঘাতে এমনভাবে আগুন জ্বলে উঠলো যে আল্লাহর রাসূলের বগলের দুই দিক থেকে আলো প্রকাশিত হলো। মনে হচ্ছে যেন অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালালে যেমন আলো হয়, সেভাবে সবকিছু আলোকিত হয়ে গেল। এবং পাথরে ৩ অংশের ১ অংশ ভেঙে  গেল। এবং এ আলোতে আল্লাহর রাসূল মাদায়েন এবং হিরা অঞ্চল দেখতে পেলেন। মাদায়েন শহর এবং পারস্যের রাজধানী এবং অট্টালিকাগুলো কুকুরের দাঁতের মতো আল্লাহর রাসূলের দৃষ্টিতে তিনি দেখতে পেয়েছেন


এরপরে আল্লাহর রাসূল দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন, সে আঘাতে পাথরের তিনের এক অংশ ভেঙ্গে গেল। এবং এমনভাবে আগুন জ্বলল, মনে হচ্ছে যেন অন্ধকার ঘরের ভিতর আলো জ্বলছে। এভাবে আল্লাহ রাসুলের বগলের ভিতর থেকে আলো বের হয়ে আসলো, এবং এ আলোতে আল্লাহর রাসূল কেশরা রোম সাম্রাজ্যের রাজপ্রাসাদ তিনি দেখতে পেলেন। এরপর তৃতীয়বার আল্লাহর রাসূল আঘাত করলেন, এই আঘাতে পাথর সম্পন্ন গুড়া গুড়া হয়ে গেল


এ আঘাতে আল্লাহর রাসূল ইয়ামান সানা এইগুলো দেখতে পেলেন। এবং আল্লাহর রাসূল বললেন, সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি কিছু দেখতে পেয়েছ? তখন সালমান ফারসি বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ আমি বিষয়টা দেখতে পেয়েছি। এরপর আল্লাহর রাসূল বললেন তোমরা সালমান ফার্সির প্রতি লক্ষ্য রাখো। সালমানের কথা শোনো। এই বলে আল্লাহ রাসুল বললেন দেখো প্রথমবার যখন আমি আঘাত করেছি, এই আঘাতে আমি হীরা এবং পারস্যের রাজধানী মাদায়েন দেখতে পেয়েছি


দ্বিতীয় আঘাতে আমি রোম সাম্রাজ্যের রাজপ্রাসাদ আমি দেখতে পেয়েছি। এবং তৃতীয় আঘাতে আমি ইয়ামান পর্যন্ত দেখতে পেয়েছি। এবং জিব্রাইল আমিন আমাকে বলেছেন, এই অঞ্চলগুলো আমার সাহাবীরা কোন এক সময় জয় করবে। এই কথা শুনে মুনাফিকরা উপহাস করতে লাগলো। যে আমরা ভয়ে প্রসাব পায়খানার জন্য ঘর থেকে বের হতে পারি না। আর মোহাম্মদ সাঃ কোথায় রুম কোথায় পারস্য কোথায় ইয়ামান এগুলো জয় করবে এটা কেমন কথা? এ ব্যাপারে মুনাফিকরা এই বিষয় নিয়ে উপহাস করতেছিল


তখন আল্লাহতালা কোরআন পাকে আয়াত নাজিল করে বললেন (কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মূল) আপনি তাদেরকে বলুন আল্লাহতালা মুলুকের মালিক। আল্লাহতালা যাকে ইচ্ছা সম্রাজ্য দান করেন, এবং যাকে ইচ্ছা সাম্রাজ্য কেড়ে নিতে পারেন। তো এভাবে খন্দক খোড়ার কাজ শেষ হল। এখন খন্দক খোরার মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছিল জুবায়ের নামে এক জন সাহাবী তিনি আল্লাহ রাসূলের মেহমানদারির জন্য তার একটি বকরি জবাহ করলো সাড়ে তিন কেজি পরিমাণ গম ছিল আটা ছিল তা দিয়ে রুটি তৈরি  করলেন


তিনি বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ, এই পরিমাণ খাদ্য আছে, তা আপনার বিশেষ কয়েকজন সাহাবী নিয়ে আপনি আমার বাড়িতে মেহমান হতে পারেন। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সমস্ত সাহাবীদের নিয়ে জুবায়েরের বাড়িতে গেলেন জুবায়ের ঘাবড়ে গেল জুবায়েরের স্ত্রী বলেন তুমি কি আল্লাহর রাসূলকে বলেছ তোমার কাছে কি পরিমান খাদ্য আছে তোমার কাছে এবং রুটি আছে তখন জুবায়ের বলল হ্যাঁ জানিয়েছি


জুবায়েরের স্ত্রী বললেন জানিয়েছেন যখন আল্লাহর রাসূল সবাইকে নিয়ে আসলেন এটা তার ব্যাপার তুমি কোন চিন্তা করো না। আল্লাহর রাসূল বললেন যে জুবায়ের তোমার খাদ্য তুমি যে বকরী পাক করেছ, একটা পাত্রে কাপড় দিয়ে ঢেকে নিয়ে আসো এবং রুটি যে পাকাইছ সেটাও একটা পাত্রে কাপড় দিয়ে ঢেকে আমার কাছে নিয়ে এসো। এরপর আল্লাহর রাসূল নিজ হাতে খাদ্য বন্টন করতে শুরু করলেন


পাত্র ঢাকা আছে, ওর ভিতর থেকে আল্লাহর রাসূল রুটি বের করে সাহাবায়ে কেরামদের দিচ্ছেন। এবং ভেতর থেকে গোস্ত বের করে সাহাবিদের কে দিচ্ছেন। এভাবে সমস্ত সাহাবী অন্তত ৩ হাজার সাহাবী খন্দক খোড়ার করার কাজ করেছন। এই তিন হাজার সাহাবী সবাই রুটি খেল গোস্ত খেলে, তারপরও বাড়ির লোকদের খাবার ছিল।এটা হচ্ছে আল্লাহর রহমত এবং আল্লাহর রাসূলের মোজেজা। এভাবে সম্মিলিত বাহিনীদের খন্দক খোড়ার কাজ শেষ হয়ে গেল। এরপর কাফেররা ও খন্দকের দিকে চলে আসতে লাগল


আবু সুফিয়ানের বাহিনীও আসলো, তারা উহুদ পাহাড়ের পশ্চিম দিকে মাজমাউল আছিয়া নামক জায়গায় তারা অবস্থান নিল। এটাকে বলা হয় নিম্ন অঞ্চল (আছফালি মিনকুম) আর গোতফান ফাজারা আসজা এরা উট পাহাড়ের পূর্বাঞ্চলে তারা আশ্রয় নিল এটাকে বলা হয় নিম্ন অঞ্চল। এই জায়গাটা মদিনা শহর থেকে অন্তত ছয় মাইল দূরে হবে। এখানে দুই দল মুশরেক অবস্থান নিল। এরপর তাদের সেনাপতিরা সৈন্য নিয়ে যখন অগ্রসর হল। তখন দেখতে পেল, এমন এক ভয়ঙ্কর অবস্থা যে আরব দেশের লোকেরা কোনদিন দেখেনি


অর্থাৎ এভাবে একটা খোন্দক খনন করে পরিখা খনন করে একটা শহরকে আটকে দেওয়া, এবং শহরকে রক্ষা করা এটা আরবের লোকেরা ইতিপূর্বে কোনদিন দেখে নাই। এবং কোনভাবে তারা খন্দক পাড়ি দিয়ে ওপারে উঠতে পারছে না। যখনই তারা খন্দকের কাছাকাছি আসতেছে, মুসলমানেরা তীর এবং পাথর দ্বারা আঘাত করছে এজন্যই তারা ওইখানে অবস্থান করতে পারছে না। তো এভাবে বেশ কিছুদিন চলতে থাকলো।


আবু সুফিয়ান জেরার ইবনে খাত্তাব একরাম ইবনে আবু জাহিল খালেদ বিন ওয়ালিদ সে তখন ইসলাম গ্রহণ করেন নাই সে তখন সেনাপতি। এইসব সেনাপতিরা তাদের সৈন্যবাহিনী নিয়ে বারবার খন্দকের কাছে আসছে এবং সংকীর্ণ জায়গা থেকে খন্দক পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন ভাবে তারা, পাড়ি দিতে পারছে না


এভাবে তারা খন্দকের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে। এই সৈন্যবাহিনী যখন, মদিনার উপকন্ঠে এসে উপস্থিত হয়ে গেল। তখন ওই ইহুদীর সরদার হুয়াই ইবনে আফতাব যে এদেরকে সংগঠিত করেছে, এই হুয়াই ইবনে আফতাব তখন মদিনা শহরের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থানরত ইয়াহুদি বনু কুরাইজা এই বনু কুরাইজার দুর্গের কাছে গেল। যেয়ে দুর্গের নেতা কাব বিন আসাদ তাকে ডাক দিলেন

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow