হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস: সংক্ষিপ্তসার

হাদীস শরীফ হলো পবিত্র কোরআনের পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী, কর্ম এবং অনুমোদনকে হাদীস বলা হয়। হাদীস সংরক্ষণ ও বর্ণনার জন্য হাদীস শাস্ত্রের উত্থান হয়।

Apr 22, 2024 - 19:00
Apr 22, 2024 - 01:24
 0  21
হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস: সংক্ষিপ্তসার
হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস: সংক্ষিপ্তসার

হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস

পবিত্র কোরআনের পরই হাদীস শরীফ ইসলামী জীবন বিধানের দ্বিতীয় উৎস। নবী করীম (সঃ)-এর যুগে তাঁর নির্দেশে নিয়মিতভাবে পবিত্র কোরআনের আয়াতসমূহ সংরক্ষণের উদ্দেশে লিপিবদ্ধ করা হত। তৎকালে কাগজ না থাকায় পবিত্র কোরআনের আয়াতসমূহ বিভিন্ন পত্র-পল্লবে, পাথরের টুকরায়, গাছের ছালে, কাষ্ঠ খণ্ডে বা চামড়ার উপর লেখা হত। তদুপরি হাফেজে কোরআনগণ হেফজ করে স্বীয় মানসপটে তা সংরক্ষণ করতেন পক্ষান্তরে রাসূল (সঃ)-এর হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নবী করীম(সঃ)-এর যুগে গৃহীত হয়নি, যাতে করে পবিত্র কোরআনের সাথে তালগোল পাকিয়ে যায়। তাই রাসূল (সঃ)-এর যুগে তাঁর হাদীসসমূহ কেবল সাহাবায়ে কেরামগণ স্বীয় বক্ষে ধারণ করে রাখতেন। 


তার পর তাঁরা মুখে মুখে হাদীসের চর্চা ও প্রচার প্রসার ঘটাতেন। সাধারণভাবে হাদীসসমূহ লেখে রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল এতদসত্ত্বেও লেখাপড়া জানা কোন কোন সাহাবী কিছু কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন এবং মুখস্থও করেছেন। রাসূলে পাক (সঃ)-এর নির্দেশে হযরত আবূ শাহ ইয়ামানী (রাঃ) কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করেন। এমনিভাবে হযরত আবূ বকর (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ), আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) সহ আরো অনেক সাহাবীই কিছু কিছু হাদীস লেখে রেখেছেন


হাদীস লেখার সূচনা

প্রথম যুগ

রাসুল (সঃ)-এর জীবদ্দশায় কতিপয় সাহাবী হাদীসে রাসুল (সঃ) লিপিবদ্ধ করেন। তাঁদের সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হচ্ছে

হযরত আবূ শাহ ইয়ামনী (রাঃ) রাসূল (সঃ)-এর নির্দেশে বিদায় হজ্জের ভাষণ লিপিবদ্ধ করেন

 . হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) সহীফা আকারে একখানা হাদীস গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করে তা রাসূল (সঃ) দ্বারা সত্যায়িত করে রেখেছিলেন

হযরত আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) একখানা সহীফা সংকলন করে তা নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন যার নাম সহীফায়ে আলী

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) ও একখানা হাদীস গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন। যার নাম সাদেকা

হযরত আবূ বকর (রাঃ)-ও একখানা হাদীস গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন, কিন্তু পরে তিনি তা বিলুপ্ত করে দেন

. হযরত সাদ ইবনে ওবাদা (রাঃ) একখানা সহীফা সংকলন করেছিলেন, যার নামসহীফায়ে সা'দ ইবনে ওবাদা

. হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)-ও হাদীসের একখানা সহীফা লিপিবদ্ধ করেছিলেন

এভাবে সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করে তা সংরক্ষণ ও হেফজ করার ব্যবস্থা করেন।


হুজুর (সঃ)-এর ইন্তেকালের পরও সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈগণ সাধারণত মুখে মুখেই হাদীসসমূহ পঠন পাঠনের চর্চা করতে থাকেন। সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন তাবেঈ সাহাবায়ে কেরাম থেকে আংশিক বা পূর্ণভাবে হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করে পঠন-পাঠনে আত্মনিয়োগ করেন।


যেমন
 

. হযরত ওরওয়া ইবনে যোবায়র (রঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর বর্ণিত হদীসসমূহ সহীফাকারে লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন

. হযরত নাফে (রঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করে তার নামকরণ করেন 'মাকতুবাতে নাফে'

. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) তাঁর বর্ণনাকৃত হাদীসসমূহ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন

. হযরত হাম্মাম ইবনে মুনাব্বেহ (রঃ) তাঁর ওস্তাদ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনাকৃত হাদীসসমূহ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করে তার নামকরণ করেন 'সহীফায়ে সহীহাহ

. হযরত বশীর ইবনে নুহাইক (রঃ) তদীয় ওস্তাদ হযরত আবূ হোরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনাকৃত হাদীসসমূহ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করে তাঁর দ্বারা সত্যায়িত করে রাখেন

. সাহাবায়ে কেরামের আমলে লিখিত মুসনাদে আবূ হোরায়রানামক একখানা গ্রন্থ মিসরের গভর্নর আবদুল আযীয ইবনে মারওয়ানের নিকট সংরক্ষিত ছিল। তার একখানা অবিকল কপি বর্তমানে জার্মানের লাইব্রেরীতে সুরক্ষিত আছে


হযরত ওহাব ইবনে মুনাব্বেহ এবং সোলায়মান ইবনে কায়স (রঃ) হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর রেওয়ায়াতসমূহ সহীফাকারে লিপিবদ্ধ করে রাখেন ও তদ্রূপ তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনে জাবের (রঃ)-এর নিকট হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসসমূহ সহীফাকারে লিপিবদ্ধ ছিল মোদ্দাকথা, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের আমলে সাধারণভাবে মুখে মুখে হেফজ করে হাদীসে রাসূল (সঃ) সংরক্ষণ করার রেওয়াজ ছিল। ব্যাপকভাবে তা লিপিবদ্ধ করার বিশেষ একটা প্রচলন ছিল না। 


কিন্তু সময়ের বিবর্তনে হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষ ভাগে সাহাবায়ে কেরাম ও প্রথম যুগের তাবেঈদের সংখ্যা যখন দিন দিন নিঃশেষ হতে লাগল এবং হাদীসে রাসূল বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা দেখা দিল, তখনই মুসলিম সমাজের ওলামায়ে কেরামের মাঝে তা সংরক্ষণের জন্য লিপিবদ্ধ করার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হতে থাকে


দ্বিতীয় যুগ

এ যুগে হাদীসসমূহ নিয়মিতভাবে গ্রন্থবদ্ধ করার কাজ শুরু না হলেও যে সব সাহাবায়ে কেরামের কাছে হাদীস লিখিত আকারে ছিল না, তাঁরা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ তাবেঈগণ তাঁদের জানা হাদীসগুলো সাধারণতঃ লেখে ফেলেন এবং সেগুলো নিয়মিত পঠন-পাঠনের কাজ শুরু করেন


হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষ দিকে এ প্রচেষ্টা একটা নতুন মোড় নেয়। তাবেঈদের বিরাট এক দল হাদীস সংকলনের মাধ্যমে পঠন-পাঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁরা সাহাবায়ে করাম এবং প্রথম যুগের তাবেঈদের লিখিত হাদীসগুলো একত্রিত করার কাজে ব্যাপকভাবে আত্মনিয়োগ করেন। হিজরী দ্বিতীয় শতকের প্রায় মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত


এ যুগে (৯৯ হিজরী সন) ইসলামী বিশ্বের খলীফা হযরত ওমর ইবনে আবদুল আযীয (রঃ) মসনদে খেলাফতে আসীন হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বশীলদের কাছে হাদীসসমূহ একত্রিত করার ফরমান জারি করেন। ফলে হাদীসের বিভিন্ন সংকলন রাজধানী দামেশকে পৌঁছতে থাকে।


খলীফা সেগুলোর বিভিন্ন কপি করে সমগ্র ইসলামী রাষ্ট্রে ছড়িয়ে দেন।
 এ যুগেই হযরত ইমাম মালেক (রঃ) মদীনায় বসে তাঁর বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ মুআত্তালিপিবদ্ধ করেন। নিয়মিতভাবে লিখিত হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটিকে প্রথম গ্রন্থ বলা যায়। ইমাম মালেক প্রায় নয়শ ওস্তাদের কাছ থেকে হাদীস শিক্ষা করেন। 


এ যুগের আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হাদীস গ্রন্থ হচ্ছে- জামে ইমাম সুফিয়ান সপ্তরী, জামে' ইবনে মোবারক, জামে ইমাম আওয়াঈ, জামে ইবনে জুরায়জ, কাজী ইমাম আবৃ ইউসুফের কিতাবুল খারাজ ও ইমাম মুহাম্মদ (রঃ)-এর কিতাবুল আসার। এ যুগে রাসূল (সঃ)-এর হাদীস, সাহাবীগণের বাণী এবং তাবেঈদের ফতওয়া সবই একসাথে লিপিবদ্ধ করা হত, কিন্তু সেখানে কোনটি হাদীস, কোনটি সাহাবীদের বাণী এবং কোনটি তাবেঈদের ফতওয়া, তা সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকত


তৃতীয় যুগ-হাদীস সংকলনের স্বর্ণযুগ

নিয়মিতভাবে হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করার কাজ চলে তৃতীয় যুগে। এ যুগকে আমরা চিহ্নিত করতে পারি হিজরী দ্বিতীয় শতকের শেষার্ধ হতে চতুর্থ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত। যাকে হাদীস সংগ্রহের স্বর্ণযুগ বলা যায়। এ যুগে রাসূল (সঃ)-এর উক্তি এবং সাহাবী ও তাবেঈদের উক্তির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হয় এবং প্রত্যেকটি পৃথক পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ হয় এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত হাদীসের পৃথক সংকলন করা হয়


এ যুগে সংগৃহীত হাদীসের বিশাল ভাণ্ডার থেকে সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীস ছাঁটাই বাছাইয়ের কাজও শুরু হয়। এ ছাঁটাই বাছাইয়ের প্রয়োজন বিশেষ করে এজন্য দেখা দেয় যে, ইতিমধ্যেই একদল লোক মিথ্যা মনগড়া হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করেছিল। 


মনগড়া বা মওজু হাদীস বর্ণনার পেছনে নিম্নোক্ত কারণসমূহ সক্রিয় ছিল

. বে-দ্বীন ও ফাসেক ধরনের লোকেরা এভাবে ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিল

. অনেক মূর্খ সূফী আবেদ প্রকৃতির লোক নেকী ও দ্বীনদারী মনে করে দ্বীনীউদ্দীপনা সৃষ্টিকারী ফযীলত সম্পর্কিত হাদীস গড়ে প্রচার করতেন

. অযোগ্য ও সংকীর্ণমনা কিছু লোক সহজে খ্যাতি লাভ করার পদ্ধতি হিসেবে মনগড়া হাদীস তৈরীর  প্রচেষ্টা চালায়

. বেদআতী ও বিশেষ মাযহাবী মতের অনুসারীরা নিজেদের মতের সমর্থনে হাদীস্ তৈরী করত

. অনেকে উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য হাদীসের মূল সনদে অনেক পরিবর্তন পরিবর্ধন করেছিল। 

. অনুরূপ অনেকে মতনের মধ্যে পরিবর্তন করে স্বীয় স্বার্থ রক্ষার প্রয়া পেয়েছিল

. অনেক লোক সাহাবীদের উক্তি, আরবী প্রবাদ, জ্ঞানী ও মনীষীদের বাণীকেও রাসূলের বাণী হিসেবে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছিলএমনিভাবে বিভিন্নজন বিভিন্ন উদ্দেশে মনগড়া হাদীস তৈরী করার কাজে ব্যস্ত ছিল


তবে এ ধরনের মিথ্যা হাদীস বর্ণনাকারীদের সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। কারণ তৎকালীন সময়টা রাসূল (সঃ)-এর যুগের নিকটবর্তী হওয়ায় তদুপরি মিথ্যা হাদীস তৈরীর বিরুদ্ধে রাসূলের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং জাহান্নামের কঠিন আযাবের ভীতি প্রদান করায় এ ধরনের ভণ্ড কুচক্রীর সংখ্যা সীমিত পর্যায়েই ছিল। এদের তুলনায় সঠিক ইসলামী বোধসম্পন্ন যথার্থ ইসলামী ভাবধারা ও আকীদা বিশ্বাসের অধিকারী মুসলমানদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি


সাথে সাথে হাদীস বিশারদগণ সহীহ হাদীস চিহ্নিতকরণের কাজকে নিজেদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। হাদীস সংকলনের দ্বিতীয় যুগ থেকে এ কাজ শুরু হয় এবং তৃতীয় যুগে এসে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে সহীহ হাদীস চিহ্নিতকরণ এবং জাল হাদীস ছাঁটাই বাছাইয়ের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন হযরত ইমাম বোখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) এ দুজন ছাড়াও অগণিত মোহাদ্দেস তাদের সমগ্র জীবন এ কাজে উৎসর্গ করেন


সহীহ হাদীস যাচাই-বাছাই ও যথাযথভাবে সংকলন এবং সংরক্ষণের উদ্দেশেও এ যুগে মোহাদ্দেসগণ একশরও বেশি এলেমের ভিত্তি স্থাপন করেন। তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলেম হচ্ছে- এলমে আসমাউর রিজাল এ শাস্ত্রে হাদীসের রাবী (বর্ণনাকারী)-এর ব্যক্তিগত জীবন হতে আরম্ভ করে নৈতিক চরিত্র, বিশ্বস্ততা, সত্যবাদিতা ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এ শাস্ত্ৰে শত শত গ্ৰন্থ লেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক রাবীর জীবনী সংরক্ষণ করা হয়েছে। যা অন্য কোন জাতির মধ্যে পাওয়া দুষ্কর


এ সংক্রান্ত আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র হচ্ছে

১. ইলমু মুসতালিহুল হাদীস- (হাদীসের পরিভাষা সংক্রান্ত এলেম)।

২. ইলমু তাখরীজুল আহাদীস (হাদীসের সূত্র অনুসন্ধান)

৩. ইলমু গারীবুল আহাদীস- (হাদীসের কঠিন শব্দগুলোর শাব্দিক গবেষণা)

৪. এলমু আহাদীসুল মওজুআহ - (মিথ্যা মনগড়া হাদীসের জ্ঞান ইত্যাদি)। এ সব শাস্ত্রে শত শত নয়; বরং হাজার হাজার কিতাব লেখা হয়েছে এবং এখনো এ ধরনের কিতাব লেখার ধারা অব্যাহত রয়েছে


এ যুগে একদিকে যেমন হাদীসসমূহ যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছিল, তেমনি সহীহ হাদীসসমূহ নিয়মিতভাবে লিপিবদ্ধ করার কাজও চলছিল। এ যুগে এ কাজটি হয় অত্যন্ত ব্যাপকভাবে। শত শত মোহাদ্দেস এ কাজে আত্মনিয়োগ করেন। হাদীস সংগ্রহের জন্য তাঁরা হাজার হাজার মাইল সফর করেন। শত শত ওস্তাদের কাছে হাদীসের পাঠ গ্রহণ করেন


রাবী (বর্ণনাকারী)-দের অবস্থা জানার জন্যও তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এভাবে সম্মানিত মোহাদ্দেসগণ যোগ্যতা ও মানক্রমে হাদীস গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করেন। এ যুগেই সিহাহ সিত্তা বা বিশুদ্ধ ছয়খানা হাদীস গ্রন্থ লিখিত হয়েছিল। যা সমগ্র ইসলামী করতে বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow