নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কি নূরের তৈরি? না মাটির তৈরি?

এই আর্টিকেলটিতে, আমরা আলোচনা করব যে মোহাম্মদ (সাঃ) নূরের তৈরি ছিলেন কি না, নাকি মাটির তৈরি। বিভিন্ন তাফসীরের ব্যাখ্যা এবং আল্লাহর বাণী থেকে প্রমাণ ব্যবহার করে, আমরা এই প্রশ্নের একটি স্পষ্ট উত্তর প্রদান করব। আমরা আরও আলোচনা করব যে কেন কিছু লোক মনে করে মোহাম্মদ (সাঃ) নূরের তৈরি ছিলেন এবং এই বিশ্বাসের ভুল কারণগুলি কী কী। অবশেষে, আমরা স্পষ্টভাবে বলব যে আল্লাহর বাণী অনুসারে, মোহাম্মদ (সাঃ) মাটির তৈরি ছিলেন, অন্যান্য মানুষের মতো।

Apr 23, 2024 - 10:00
Apr 22, 2024 - 23:43
 0  15
নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কি নূরের তৈরি? না মাটির তৈরি?
নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কি নূরের তৈরি? না মাটির তৈরি?

মোহাম্মদ (সাঃ) কি নূরের তৈরি? না মাটির তৈরি? 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, یٰۤاَهۡلَ الۡکِتٰبِ قَدۡ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلُنَا یُبَیِّنُ لَکُمۡ کَثِیۡرًا مِّمَّا کُنۡتُمۡ تُخۡفُوۡنَ مِنَ الۡکِتٰبِ وَ یَعۡفُوۡا عَنۡ کَثِیۡرٍ ۬ؕ قَدۡ جَآءَکُمۡ مِّنَ اللّٰهِ نُوۡرٌ وَّ کِتٰبٌ مُّبِیۡنٌ অর্থঃ হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন। কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার মধ্যে থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয়ে মার্জনা করেন। তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। (সূরা মায়েদা আয়াত-১৫)


ব্যাখ্যাঃ কোন কোন তাফসীর কারকদের মতে, নূর মানে ও কিতাব, আর কিতাবে মুবিন মানে ও কিতাব আবার অনেক তাফসির কারকেরা বলেছেন, “নূর বলতে এখানে মোহাম্মদ (সাঃ) কে বুঝানো হয়েছে, আর কিতাব বলতে কোরআনকে বুঝানো হয়েছে। তো এটাই বেশি গ্রহণযোগ্য যেহেতু পাশাপাশি দুইটা শব্দ তোমাদের মধ্যে আলো। মোহাম্মদ (সাঃ) আলো যেহেতু তিনি উম্মে লেখাপড়া জানেন না, কিন্তু তিনি আসার ফলে সমাজের সমস্ত অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে যত কুসংস্কার, যত মূর্তি পূজা, যত জুলুম অত্যাচার, আরবের যেটা অন্ধকার যুগ আইয়ামে জাহিলিয়াত বলা হয়, এই সমস্ত অন্ধকার দূর হয়েছে মোহাম্মদ (সাঃ) এর আগমনের ফলে। আর তিনি আগমন করেছেন আল্লাহর কোরআন নিয়ে। এইজন্যই মোহাম্মদ (সাঃ) কে নুর বলা হয়, আলো বলা হয়। অসম্ভব কিছু না। যেহুত বিশ্বনবীকে কোরআনে সিরাজাম মুনিরা বলা হয়েছে


আল্লাহ তায়ালা বলেন
,  یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیۡرًا  وَّ دَاعِیًا اِلَی اللّٰهِ بِاِذۡنِهٖ وَ سِرَاجًا مُّنِیۡرًا

অর্থঃ হে নবী আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে। 
আল্লাহর অনুমতিক্রমে তার দিকে আহ্বানকারী রূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ রূপে। (সূরা আহযাব আয়াত-৪৫-৪৬) 


সূরা আহযাবের ৪৫ নাম্বার আয়াতে আল্লাহর রাসূলকে উজ্জ্বল আলো বলা হয়েছে। কাজেই সিরাজাম মুনিরা এটার মানে নূর আলো এগুলো বলা যেতে পারে। যেকোনো ভালো মানুষকে আপনি আলো বলতে পারেন। যেমন সমাজের একজন ভালো মানুষ মারা গেলে, অনেকে বলে আহারে আমাদের সমাজের আলোটা নিভে গেছে। এখন এ আলো মানে সে আগুন না বা আগুনের তৈরি না। তো মোহাম্মদ (সাঃ) কে আলো বলা হয়, এর অর্থ এই হবে না যে, তিনি নূরের তৈরি


তিনি আলো সমাজের ভালো মানুষগুলিও তো আলো। এ আলো দাঁড়াই তো সমাজের অন্ধকার দূর হয়। তাওরাত শব্দের অর্থ তো আলো, উজ্জ্বল করা। তো মোহাম্মদ (সাঃ) কে আলো বলা হয়েছে, যেহেতু তিনি সমস্ত কুসংস্কারগুলো দূর করে, একটা সুন্দর সমাস তিনি গড়েছেন এবং তিনি সাথে নিয়ে এসেছেন স্পষ্ট কিতাব


মোহাম্মদ (সাঃ) কি নূরের তৈরি? 

এক শ্রেণীর লোক পৃথিবীতে এখনো আছে, যারা বলে যে মোহাম্মাদ (সাঃ) নূরের তৈরি। নাউজুবিল্লাহ! মোহাম্মদ (সাঃ) কিসের তৈরি এটাতো কোরআনেই বলা আছে। কুরআনে একটা জিনিস স্পষ্ট বলা থাকলে, সেটা নিয়ে যদি মতভেদ করা হয়, তার অর্থ সে কোরআনকে মানে না। কোরআনের উপর আত্মসমর্পণ করেনি। ইসলাম মানেই তো আত্মসমর্পণ করা। মহান আল্লাহ তা'আলা যা বলবেন সেটা মানতে হবে। এখানে নিজের কোন বুদ্ধি খাটানোর কোন যুক্তি নাই। 


তো আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـهُکُمۡ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَمَنۡ کَانَ یَرۡجُوۡا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلۡیَعۡمَلۡ عَمَلًا صَالِحًا وَّ لَا یُشۡرِکۡ بِعِبَادَۃِ رَبِّهٖۤ اَحَدًا

অর্থঃ বলুন আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎ কর্ম করে, এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে। (সূরা কাহফ আয়াত-১১০)


মোহাম্মদ (সাঃ) বলেন আমি তোমাদের মতই মানুষ, কিন্তু আমার কাছে ওহী আসে। আর আমরাও মানুষ, আমাদের কাছে ওহী আসে না। মোহাম্মদ (সাঃ) আমাদের মতই মানুষ। তার কারণ তিনি মায়ের পেটে হয়েছেন, পিতার ঔরসে হয়েছেন। তিনি প্রসাব পায়খানা করেন, তিনি খাদ্য খাদক গ্রহণ করেন। তিনি হাটে বাজারে যান, তালাক স্ত্রী এই সবকিছু তিনি সাধারণ মানুষ যেমন ভাবে ব্যবহার করে, এগুলো সবই মোহাম্মদ (সাঃ) এর মধ্যে আছে। এজন্য আল্লাহ তাআলা বলেছেন তুমি জানিয়ে দাও আমি তোমাদের মতই মানুষ


আমার কাছে ওহি আসে এতটুকুই ব্যবধান। কিন্তু মোহাম্মদ (সাঃ) নূরের তৈরি নয়। আপনি যদি ঈমানদার হন, তাহলে এই কথাগুলো বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন। আল্লাহর সৃষ্টির জিন জাতি আগুনের তৈরি। আল্লাহ বলেন আদম এর আগে আমি জিন জাতিকে ধোয়া বিহিন আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছি। এরপর আরেকটা জাতি আছে, ফেরেশতা জাতি। যারা আমাদের সেবাই নিয়োজিত থাকে। এই ফেরেশতারা আল্লাহর নূরের তৈরি। তো আগুনের চাইতে আবার নূর শক্তিশালী। ফেরেশতারা নূরের তৈরি, জিন জাতি আগুনের তৈরি আর আদম জাত মাটির তৈরি


এটা আল্লাহ স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। এ কথার পরেও যদি আপনি বিশ্বাস না করেন, তাহলে তো আপনার ঈমানই থাকলো না। যারা আগুনের তৈরি এবং নূরের তৈরি, তারা বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে। এবং হাওয়ায় উড়তে পারে। তাহলে এখন বলেন মানুষ কি বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে? মোহাম্মদ (সাঃ) কি বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করেছে আপনারা দেখেছেন? বা বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারেন? জিনেরা বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে। ফেরেশতারাও বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে


জিব্রাইল আমিন নূরের তৈরি তিনি বিভিন্ন সময় দাহিয়াতুল কালবীর আকৃতিতে রাসূল (সাঃ) এর সামনে এসে বসছেন, এবং ওহি বিনিময় করছেন। ফেরেশতারা নূরের তৈরি বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে, হাওয়াই চলতে পারে অদৃশ্য হতে পারে দৃশ্যমান হতে পারে। কিন্তু মোহাম্মদ (সাঃ) এর কি এই গুন ছিল? তিনি অদৃশ্য হতে পেরেছেন? আবার দৃশ্যমান হয়েছেন? তিনি উড়তে পারতেন? বা হাওয়াই চলতে পারতেন? যেটা নূরের তৈরি ফেরেশতার বৈশিষ্ট্য, সেটা কি মোহাম্মদ (সাঃ) এর  মধ্যে পাওয়া গেছে? না যায়নি


এরপরে দেখেন মোহাম্মদ (সাঃ) মা আমেনার পেটে হয়েছেন, তার পিতা আব্দুল্লাহ, তারা মানুষ। তাহলে মানুষের পেটে নূরের তৈরি মানুষ কিভাবে হয়? মানুষের পেট থেকে তো মানুষই হবে। গরুর পেটে গরুর বাচ্চা হয়, মহিষের পেটে ছাগল হয় না। তালগাছে আম হয় না, আম গাছে তাল হয় না। তাল গাছে বেল হয় না। প্রত্যেকটা সৃষ্টির যে নিয়ম এটাই হয়। মানুষের পেটে মানুষের ঔরসে আবার নূরের তৈরি মানুষ কেমনে হয়?


আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لَقَدۡ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ عَزِیۡزٌ عَلَیۡهِ مَا عَنِتُّمۡ حَرِیۡصٌ عَلَیۡکُمۡ بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ

অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে, তোমাদের নিকট  একজন রাসূল এসেছে, তোমাদের দুঃখ কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী,মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল দয়াময়। (সূরা তাওবা আয়াত-১২৮) তোমাদের মধ্যে হতে একটা মানুষকে আল্লাহ বাছাই করে রাসূল বানিয়েছে, এখন তোমরা যদি মানুষ হও, তাহলে তোমাদের নবীও মানুষ। 


তোমরা যদি নূর হও, তাহলে তোমাদের নবী ও নূর। যেহেতু মিন আনফুসিকুম বলা হয়েছে, তোমাদের মধ্য হতে একটা লোক বাছাই করে, রাসূল বানানো হয়েছে। তাহলে আপনারা বলেন, আপনারা কি সবাই নূরের তৈরি? যারা রাসূলকে নূর বলেন, আপনারাও নূর নাকি? কাজে এইজন্য এই ধরনের কথা বলতে হয় না। কুরআনে যা আছে তার উপর আত্মসমর্পণ করতে হয়

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow